২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু হতেই তৃণমূলের ভরাডুবির ছবি সামনে এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘাসফুলের দুর্গেও ফাটল ধরিয়েছে পদ্মশিবির। এই গেরুয়া ঝড়ে বদলেছে হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রের সমীকরণ। সন্ধ্যা ৭টার ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওই কেন্দ্র থেকে ৩১ হাজার ৪৬২ ভোটে হেরেছেন। হার নিশ্চিত জেনে তিনি যখন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই বিজেপি সমর্থকদের কটূক্তি ধেয়ে আসে জ্যোতিপ্রিয়ের উদ্দেশে। সে সময় তাঁকে দেখে ‘চাল চোর’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা।
২০১১ সাল থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা বিধায়ক রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সে বার ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে ব্যবধান বেড়ে ৪৬ হাজারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। ২০২১ সালে বালু জিতলেও ব্যবধান কমে নেমেছিল ৪ হাজারের নীচে। ২০২৬-এ সন্ধ্যা অবধি যা ট্রেন্ড তাতে স্পষ্ট, বালু আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।
পরাজয় নিশ্চিত জেনে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ‘হেরে গিয়েছি। আর কী করা যাবে। সমস্যা বলতে পারছি না। দল পর্যালোচনা করবে।’ বালু যখন গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাঁর উদ্দেশে ‘চাল চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়েছিল তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর। এই অভিযোগেও জেলেও গিয়েছিলেন তিনি। জেল থেকে মুক্তি মিললেও আর মন্ত্রী ছিলেন না তিনি। ২০২৬ সালে হেরে বিধায়ক পদও খোয়াতে হলো জোড়াফুলের এই সৈনিককে।
প্রসঙ্গত এই বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয়কে জেতানোর জন্য আবেদন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালুকে ‘ফেভারিট ক্যান্ডিডেট’ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন। তাঁকে জেতালে হাবরাকে বিপুল সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মমতার সেই আবেদন ব্যর্থ হলো। পদ্মবনে পথ হারাতে হলো তৃণমূল সুপ্রিমোর ‘ফেভারিট ক্যান্ডিডেট’কে।