অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভবানীপুরে জয়ী শুভেন্দু, দুই কেন্দ্র জিতে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী?
আজ তক | ০৫ মে ২০২৬
একুশে নন্দীগ্রামের পর ছাব্বিশে ভবানীপুর। পরপর দুই বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়ে এখন বাংলায় জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। অমিত শাহের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শুধুমাত্র নন্দীগ্রাম নয়, ভবানীপুর আসন থেকেও জিতলেন। তবে কি এবার বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন তিনিই?
ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'মুসলিমরা আমাকে ভোট দেয়নি। হিন্দুরা ঢেলে ভোট দিয়েছেন। এটা হিন্দুত্বের জয়। যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল। এ বার তাঁর রাজনৈতিক সন্ন্যাস হয়ে গিয়েছে।'
ভবানীপুরের এই ২০ রাউন্ডের গণনায় কখনও এগিয়েছেন শুভেন্দু তো কখনও আবার ২৪ হাজারের লিড পেয়ে গিয়েছিলেন মমতা। স্নায়ুর লড়াইয়ের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য খানিক মেজাজ হারিয়ে ফেলেন গণনাকেন্দ্রের বাইরে এসে। শুভেন্দু ছিলেন ঠান্ডা মাথাতেই। প্রথম থেকেই জয় নিয়ে সুপার কনফিডেন্ট তিনি।
নন্দীগ্রামে আরও শক্ত হল ভীত
মমতা-শুভেন্দুর এই ডুয়েলের প্রথম পর্বটা শুরু হয়েছিল নন্দীগ্রামে, গত ৫ বছর আগে। সেবারও মমতাকে হারিয়েছিলেন তিনি। এবার শক্ত করলেন নিজের ঘাঁটি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ট TMC-তে যোগ দেওয়া পবিত্র করকে হারিয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে।
মমতার অস্ত্রেই তাঁকে পরাস্ত শুভেন্দুর
নন্দীগ্রামের পাশাপাশি যদি ভবানীপুরে মমতাকে হারাতে পারেন, তা হলে তাঁর মুকুটে আরেকটি পালক যোগ হবে, তা জানতেন শুভেন্দু। লড়াই সহজ নয় জেনেও তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মাটি কামড়ে পড়েও ছিলেন। আর ফল পেলেন হাতে-নাতে। ২ বারের বিধানসভা শেষে রেজাল্ট মমতা ০, শুভেন্দু ২।
তিনিই মুখ্যমন্ত্রী?
বিপুল এই সাফল্যের পর এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন, কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? দৌড়ে সবথেকে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দুই। তাঁর ক্যারিশমতেই গত ৫ বছরে তৃণমূলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে BJP। ফলে শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুই বাংলার পরবর্তী CM হতে চলেছেন বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির।