• কেউ দল ছেড়েছেন, দলে গুরুত্ব হারিয়েছেন কেউ কেউ! মমতার দাপুটে ‘মিডল অর্ডার’ ভেঙে পড়ল কি অভিষেকের উত্থানে?
    আনন্দবাজার | ০৪ মে ২০২৬
  • ২০১১ সালের ২১ জুলাই। ৩৪ বছরের বামদুর্গ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়়েছে মাস দুয়েক আগেই। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গড়ে ব্রিগেডে ‘শহিদ দিবস’ পালন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চেই তৃণমূলের রাজনীতিতে ‘অভিষেক’ হয় আর এক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

    ২৪ বছরের তরুণ নেতা অভিষেককে সে দিন সকলে মমতার ভ্রাতুষ্পুত্র হিসাবেই চিনতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে তাঁর ক্ষমতা বেড়েছে। সমান্তরালে ক্রমশ প্রকট হয়েছে দলের অন্দরে নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্ব। ১৫ বছর পরে দল যখন ক্ষমতাচ্যুত, তখন ময়নাতদন্ত করতে বসে অনেকে বলছেন, তৃণমূলে মমতার তৈরি ‘মিডল অর্ডার’-এ ধসের বীজও সেখানেই নিহিত ছিল। নবীন-প্রবীণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ব্যর্থতাতেই দুর্গের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। দলে নবীনেরা যত মাথা তুলেছেন, নতুন সংস্কৃতি দলের সঙ্গে যত সম্পৃক্ত হয়েছে, ততই একে একে গুরুত্ব হারিয়েছেন প্রবীণ নেতারা। চিড় ধরেছে সংগঠনে।

    ‘মিডল অর্ডার’

    ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি পথচলা শুরু করেছিল তৃণমূল। মমতার সঙ্গে সে দিন কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মুকুল রায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, মদন মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা (ববি)। পরে যোগ দেন শিশির অধিকারী, শুভেন্দু অধিকারীও। টানা এক দশক ধরে ক্ষমতাসীন বাম সরকারের বিরোধিতায় এই সমস্ত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও তাঁরা দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। দলে এবং সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। মমতার অধীনে এঁরাই তৃণমূলের সেই শক্তিশালী ‘মিডল অর্ডার’, যাঁদের ব্যাটে ভর করে অতীতে একের পর এক বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়েছেন নেত্রী। ২০২৬ সালে এসে তৃণমূলের মুখ থুবড়ে পড়ার নেপথ্যেও রয়েছে সেই ‘মিডল অর্ডার’-এর অপ্রাসঙ্গিকতা। প্রবীণ নেতাদের কেউ দল ছেড়েছেন। নতুনদের সঙ্গে তাল মেলাতে না-পেরে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। কোনও কোনও নেতা নতুনদের সঙ্গে সমঝোতায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন বটে, তবে দলে তাঁদের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। মমতা যে রাজনীতি করতেন, তাতে ‘কর্পোরেট’ সংস্কৃতির বদলে ছিল ‘খোলা হাওয়া’। মুড়ি-তেলেভাজার দল থেকে তৃণমূল ক্রমশ ফিশফ্রাইয়ের দল হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মুড়ি-তেলেভাজার নেতারাও ক্রমশ দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন। ক্রমে ক্রমে তাঁরা দলের অন্দরে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিলেন। সেই সঙ্গে পতন হয়েছিল তৃণমূলের ‘মিডল অর্ডার’-এর।

    পুরাতনে আস্থা

    প্রথম থেকে লড়াইয়ে সঙ্গ দিয়েছেন যাঁরা, মমতা বরাবর দলের অন্দরে তাঁদের গুরুত্ব দিতেন। তৃণমূল গড়ে ওঠার পর অধিকাংশ জেলায় তাঁদেরই তিনি জেলা সভাপতি করেছিলেন, যাঁরা মমতা যুব কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন জেলায় কংগ্রেসের যুব সভাপতি ছিলেন। উদাহরণ হিসাবে হাওড়ায় অরূপ রায়, কোচবিহারে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, হুগলিতে আকবর আলি খন্দকার, উত্তর ২৪ পরগনায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকদের কথা বলা যায়। কলকাতায় যুব কংগ্রেস নেতা হিসাবে ফিরহাদ, মদনরাও সমান গুরুত্ব পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ সময় এঁদেরই দাপট ছিল। মমতার ‘ঘনিষ্ঠ’ এই বৃত্তই সরকার চালিয়েছে। কিন্তু ২০১৬-’১৭ সাল থেকে তাঁদের অনেকের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমে আসে। ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকাশ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে তিরস্কার করেছিলেন মমতা। জানতে চেয়েছিলেন, শোভন পার্টি করতে চান না ‘প্রেম’ করতে চান! সেই ঘটনার কিছু পরেই ২০১৮ সালে দল ছাড়েন শোভন। মেয়র এবং মন্ত্রিপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে শোভনের দূরত্বই থেকেছে। বিজেপিতে গিয়েও তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করেননি। কিন্তু তৃণমূলের অনেকেই মনে করেন, শোভনের প্রস্থানে তৃণমূল লাভবান হয়নি। সম্প্রতি অবশ্য শোভন তৃণমূলে ফিরেছেন। কিন্তু তাঁর আর সেই আগের গুরুত্ব নেই।

    অভিষেকের উত্থান

    ২০১১ সালে অভিষেক তৃণমূলের রাজনীতিতে প্রবেশের পরে ‘যুবা’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করা হয়েছিল। অভিষেক ছিলেন সেই সংগঠনের সভাপতি। তবে তার সমান্তরালে তৃণমূলের যুব সংগঠনও ছিল। তার মাথায় ছিলেন শুভেন্দু। অনেকের মতে, তখন থেকেই অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের পরিসর তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সময় যত এগিয়েছে, তা তত বেড়েছে। অভিষেক তৃণমূলের যুব সংগঠনের সভাপতি হওয়ার পরে আর ‘যুবা’র অস্তিত্ব ছিল না। দলে ক্রমশ ক্ষমতার শীর্ষে উঠতে শুরু করেছিলেন অভিষেক। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে বসানো হয় তাঁকে। তার অনেক আগে থেকেই অবশ্য দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে অলিখিত পরিচিতি তিনি আদায় করে নিয়েছিলেন। মমতার পর তৃণমূলে তাঁর কথাই সবচেয়ে বেশি মান্যতা পেতে শুরু করে। তার পরে যত দিন গিয়েছে, দলের অন্দরে অভিষেকের ক্ষমতা তত বেড়েছে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের রাজনৈতিক দর্শনের সংঘাত বেধেছে। কিন্তু তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। কখনও কখনও স্বয়ং মমতার হস্তক্ষেপে। আবার কখনও স্বেচ্ছায়। কিন্তু দলের অন্দরে অভিষেকের উত্থান অব্যাহত থেকেছে। কারণ, অভিষেক যে ভাবে দল পরিচালনা করেছেন, যে ভাবে তিনি নির্বাচনে বিশেষ দায়িত্ব নিয়েছেন, তাতে একের পর এক ভোটে তৃণমূল জিতেছে। কঠিন ভোটেও দল উতরে গিয়েছে।

    নতুন তৃণমূল

    অভিষেক বার বার ‘নতুন’ তৃণমূলের কথা বলেছেন। দলকে নিয়ে, সংগঠন নিয়ে একাধিক নতুন ভাবনা প্রকাশ্যে এনেছেন। তৃণমূলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি চালু করার পক্ষপাতী ছিলেন অভিষেক। প্রকাশ্যে তা ঘোষণাও করেছিলেন। সেই সময় প্রথম যে নামটি সকলের মাথায় এসেছিল, সেটি হল ফিরহাদ হাকিম। একসঙ্গে মন্ত্রী এবং মেয়রের পদ সামলাচ্ছিলেন তিনি। তবে এক পদের ভাবনা বাস্তবায়িত করতে পারেননি অভিষেক। মমতার ‘ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন’ ববি দু’টি পদ নিয়েই থেকেছেন। তৃণমূলের অন্দরে বয়সবিধিও চালু করতে চেয়েছিলেন অভিষেক। বলেছিলেন, রাজনীতিতে অবসরের বয়স থাকা উচিত এবং তা কখনওই ৬৫ বছরের বেশি হওয়ার কথা নয়। তবে মমতাকে তার ‘ব্যতিক্রম’ বলেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি। অভিষেকের বয়সবিধিও তৃণমূলে সে ভাবে প্রয়োগ করা যায়নি। প্রবীণদের রেখে নতুনদের জায়গা দিতে হয়েছে। অভিষেকের ‘নতুন তৃণমূলে’ কেউ ক্ষুণ্ণ হয়েছেন, কেউ মানিয়ে নিয়েছেন।

    মুকুল-বিনাশ

    তৃণমূলের সংগঠনকে প্রথম থেকে শক্ত হাতে ধরে রাখার কাজটা করতেন মুকুল রায়। তিনি সংগঠনের নাড়ি-নক্ষত্র জানতেন। মমতা সরকার চালাতেন আর মুকুল দল চালাতেন। তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতাদেরও নাম জানতেন তিনি। ভোটের সময় সঙ্গে মানচিত্র নিয়ে ঘুরতেন। সেই মানচিত্রে সবুজ, হলুদ, লাল রঙে চিহ্নিত করা থাকত লোকসভা বা বিধানসভার আসন। মুকুল বলতেন, সবুজ কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত, হলুদে অনিশ্চিত, লালে হতে পারে পরাজয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যেত। এহেন মুকুল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যে ২০১৭ সালে তৃণমূল ছাড়েন। পরে বিজেপি-তে যোগ দেন। অনেকের মতে, তৃণমূলের সংগঠনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল মুকুলের দলত্যাগে। অভিষেকের উত্থানের পর দলে মুকুলের গুরুত্ব কমে গিয়েছিল। তৃণমূলের একাধিক সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালের ভোটের আগেই তিনি বিজেপি-তে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপির এক শীর্ষ নেতার পরামর্শে দলে থেকে গিয়েছিলেন। তবে দলত্যাগ অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। মুকুল যোগ দেওয়ার পরে ২০১৯ সালের ভোটে অন্যতম সেরা ফল করেছিল বিজেপি। কিন্তু সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল। সেই ভোটে ব্যর্থ হয়েছিলেন মুকুল। কালক্রমে তিনি ফেরেন তৃণমূলে। কিন্তু যিনি ফিরেছিলেন, তিনি মুকুলের ‘ছায়া’ মাত্র।

    ক্ষোভের আগুন

    শুভেন্দুর মধ্যে ২০১৯ থেকেই অভিষেক-বিরোধিতা প্রকট হচ্ছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন। তবে তার আগে তৃণমূলে ‘সাংগঠনিক সংস্কার’ হয়েছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের সঙ্গে পরামর্শদাতা সংস্থা হিসাবে যুক্ত হয় আই-প্যাক। এর পর পরই দলের জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া হয়। হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে ফিরহাদ, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিঙে অরূপ বিশ্বাসরা ওই পদে ছিলেন। তাঁর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও শুভেন্দু পর্যবেক্ষক ছিলেন মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং, উত্তর দিনাজপুরের। ওই পদ তুলে দেওয়ায় দলের অন্দরে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, মমতাকে ঘিরে থাকা বৃত্তের কাজের পরিসর গুটিয়ে যাচ্ছে এই পদ তোলার ফলে। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। যদিও অভিষেকের বক্তব্য ছিল, শুভেন্দুর ‘মতিগতি’ বুঝেই ওই পদক্ষেপ করা হয়। পরে তা ঠিকও প্রমাণিত হয়েছিল।

    এবং আই-প্যাক

    তৃণমূলে অভিষেকের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধির সমান্তরালে ডালপালা মেলেছিল আই-প্যাক। সংগঠনে ক্রমে মাথা তুলেছিল কর্পোরেট ঘরানা। আই-প্যাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কাজ বরাবর করেছে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর। তবে আই-প্যাককে গোড়়ার দিকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্রের মতো নেতারা প্রকাশ্যেই তাদের বিরোধিতা করেছিলেন। প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘এত দিন ধরে রাজনীতি করছি। এখন সাংবাদিক বৈঠকের আগে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা এসে হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে যাবে? সেই কাগজ দেখে আমাকে মুখস্থ বলতে হবে?’’ তবে সময়ের সঙ্গে পরে তাঁদের অনেককেই সেই নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হয়েছে। যাঁরা পারেননি, তাঁদের ছিটকে যেতে হয়েছে। গোড়ার দিকে যাঁরা আই-প্যাকের বিরোধী ছিলেন, পরে তাঁরাই ওই সংস্থাকে আপন করে নিয়েছিলেন। দলের এক প্রবীণ নেতা একান্ত আলোচনায় বলেওছিলেন, ‘‘আমি যদি আই-প্যাককে না-মেনে রাজনীতি করি, তা হলে সেটা ডারউইনের তত্ত্বকে অস্বীকার করার শামিল হবে।’’

    ট্যাক্সি ইউনিয়ন করে উঠে আসা মদন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘ডুবে’ যাওয়া পার্থ— মমতার চোখের সামনেই হু-হু করে ‘উইকেট’ পড়েছে। অভিষেকের নেতৃত্ব সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারেনি। নতুন তৃণমূলে নতুন কোনও ‘মিডল অর্ডার’ গড়ে উঠতে পারেনি। বরং শুভেন্দু দল থেকে বেরিয়ে বিজেপি-কে শক্তিশালী করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে খোদ মমতাকেও হারিয়ে দিয়েছেন নন্দীগ্রামে! শোভন তৃণমূলে ফিরলেও প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছেন। গুরুত্ব কমে গিয়েছে মদনের। রাজ্য সভাপতি পদে থাকলেও সুব্রত বক্সী আগের চেয়ে জবুথবু। গরু পাচার মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকে বীরভূমে ধারাবাহিক ভাবে দাপট কমেছে অনুব্রত মণ্ডলের। শোভনদেব, অরূপ, ববিরা টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু মমতার সঙ্গে যে বোঝাপড়া নিয়ে তাঁরা আগে কাজ করতেন, সেই দাপট দীর্ঘ দিন দেখা যায়নি। ছোটবড় কিছু ক্ষত তৃণমূলকে ধীরে ধীরে পতনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র মতো প্রকল্প মানুষকে আকৃষ্ট করলেও সংগঠনের সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে পারেনি।

    দলের অনেকে মনে করেন, ‘মিডল অর্ডার’ ভেঙে পড়ায় পুরো ব্যাটিং অর্ডারই রক্তশূন্য হয়ে পড়েছিল। ম্যাচ হেরে তারই খেসারত দিতে হল তৃণমূলকে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)