• মমতা-সহ দেড় ডজন মন্ত্রীর হার, তৃণমূলের হয়ে টিমটিম করে জ্বলে রইলেন কারা?
    আনন্দবাজার | ০৪ মে ২০২৬
  • গেরুয়া ঝড়ে ফিকে হয়ে গেলেন তৃণমূলের প্রায় দেড় ডজন মন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে মলয় ঘটক, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো ১৭ জন হেভিওয়েট প্রার্থী হেরে গেলেন। কেউ খুব কম ব্যবধানে। কারও ব্যবধান ছিল আবার যথেষ্ট বেশি। কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও গড় রক্ষা করতে পারলেন না কয়েক জন মন্ত্রী। অন্য দিকে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। প্রথম দিক থেকে শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। মমতার সঙ্গে ভোটের ব্যবধানও অনেকটা ছিল। কিন্তু গণনা যত এগিয়েছে, তত ব্যবধান কমেছে। তবে শেষ হাসি হাসলেন শুভেন্দুই। অন্য দিকে, জিতেছেন ১১ জন মন্ত্রী।

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকায় অনেক চমক ছিল। রদবদলও ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিলে মোট ২৮ জন মন্ত্রীকে টিকিট দিয়েছিল তৃণমূল। কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা থেকে প্রার্থী ছিলেন চার জন করে মন্ত্রী। হুগলি জেলা থেকে ছিলেন তিন মন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুর— এই পাঁচটি জেলার প্রতিটি থেকে দু’জন মন্ত্রী নির্বাচনে লড়েছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বীরভূম থেকে এক জন করে মন্ত্রী প্রার্থী ছিলেন।

    কলকাতার ভবানীপুর আসনে প্রার্থী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিম। বালিগঞ্জে প্রার্থী হয়েছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নারী, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা।

    হুগলির চন্দননগর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন এবং পর্যটন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সিঙ্গুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না। জাঙ্গিপাড়া থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর দমদমে প্রার্থী হয়েছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দমদমে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিধাননগর আসনে টিকিট দেওয়া হয়েছিল দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল মধ্যমগ্রাম আসনে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর আসনে থেকে প্রার্থী ছিলেন সুন্দরবন বিষয়ক মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। কসবায় রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান। হাওড়া জেলার মধ্য হাওড়া থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন মন্ত্রী অরূপ রায়কে। , উলুবেড়িয়া দক্ষিণে প্রার্থী ছিলেন জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের মন্ত্রী পুলক রায়। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের প্রার্থী ছিলেন গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও পাঠাগার পরিষেবা বিষয়ক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, পূর্বস্থলী দক্ষিণে প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর পূর্ব আসনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার প্রার্থী ছিলেন। আসানসোল উত্তরে প্রার্থী হয়েছিলেন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক।

    উত্তরবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে প্রার্থী ছিলেন উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। মালদহের সুজাপুরে সেচ ও জলপথ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান।

    নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ আসনে প্রার্থী ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে লড়েছিলেন সেচ ও জলপথমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, ঝাড়গ্রামের বিনপুরে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বিষয়ক মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। পুরুলিয়ার মানবাজারে প্রার্থী ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। বীরভূমের বোলপুরে টিকিট দেওয়া হয়েছিল সংশোধনমূলক প্রশাসন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহকে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)