ভারতে একমাত্র কেরলেই ক্ষমতায় ছিল বামেরা। কিন্তু দক্ষিণী এই রাজ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ‘লাল দুর্গ’। কেরলে ঝড় তুলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। কিন্তু তার মাঝেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে কেরলে খাতা খুলল বিজেপি।
তিরুবনন্তপুরমের তিন আসনে জয়ী হয়েছে গেরুয়া শিবির। আসনগুলি হল – নিমোম, কাজাক্কুট্টম এবং চথান্নুর। নেমম কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপির ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী কথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর। ৩ হাজার ৫৯০ ভোটে তিনি পরাজিত করেছেন সিপিএম প্রার্থী ভি সিভানকুট্টিকে। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস। কাজাক্কুট্টম কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি প্রার্থী ভি মুরলিধরন। অন্যদিকে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর চাথান্নুর কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে এনেছেন বিজেপির বি বি গোপাকুমার। দক্ষিণী কেরলে বিজেপির এক সাফল্য রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
গত ১২ বছর ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। কিন্তু দক্ষিণে সেভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য খুলল দক্ষিণের দরজা। তবে ২০১৬ সালে তিরুবনন্তপুরমের নিমোম কেন্দ্রেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু পাঁচ বছর পর নিমোমে ফের ফুটল পদ্ম। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেরলে ইতিমধ্যেই ৬৩ আসনে জয়ী হয়েছে ইউডিএফ। অন্যদিকে, মাত্র ২৬টি আসনে জিতেছে বামজোট এলডিএফ।
উল্লেখ্য়, কেরলের নির্বাচনী ফলাফল জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এলডিএফের পরাজয়ের ফলে এখন ‘বামশূন্য’ দেশ। ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথমবার গোটা দেশে কোথাও নেই বাম সরকার – যা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। আর এসবের মাঝেই দক্ষিণে বিজেপির জন্য খুলল দরজা।