বউদির কাছে পরাজিত ননদ। বাগদা কেন্দ্রে শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলেন বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা আসনে উড়ল গেরুয়া আবির। তৃণমূলের থেকে এই আসন ছিনিয়ে নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি-কর্মীরা। বনগাঁর মতুয়াগড়ে এবারও বিজেপির জয়জয়কার। বনগাঁ উত্তর ও দক্ষিণ, গাইঘাটা এলাকাতেও বিজেপি জয়ের অপেক্ষায়। এদিন তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের কাছে ৩৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত (West Bengal Election Result) হয়েছেন।
মতুয়া ঠাকুরবাড়ির ননদ-বউদির লড়াইয়ের দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। মতুয়া ঠাকুরবাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে বিজেপি, তৃণমূল দুই শিবিরে আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে আছে। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিতে জয়ী হয়েছিলেন শান্তনু ঠাকুর। গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছিলেন। এখন তিনি মোদি সরকারে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী। বাগদা কেন্দ্র বিজেপি এবার প্রার্থী করেছিল শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুরকে প্রার্থী করেছিল দল।
ঠাকুরবাড়ির ননদ ও বউদির লড়াই বাগদা কেন্দ্রে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। প্রসঙ্গত, বছর খানেক আগে বাগদা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন মধুপর্ণা। ওই আসন হাতছাড়া করেছিল বিজেপি। এবার সেই কেন্দ্রে আরও বেশি ভোটে তিনি জয়ী হবেন, সেই কথা বলেছিলেন মধুপর্ণা। প্রচারে বেরিয়ে ননদ-বউদি প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন। চার কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বাগদা বিধানসভা। উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুরের জয় এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছিল। মতুয়া ঠাকুরবাড়ির মেয়ে হিসেবে তাঁর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আবেগঘন সংযোগ মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরকে নিয়ে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও শেষ হাসি হাসলেন সোমা।
এদিন গণনার শুরুতে মধুপর্ণা বউদিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছিলেন। ভোটের ব্যবধান কয়েক রাউন্ড গণনার পর কয়েক হাজার বাড়িয়েও দিয়েছিলেন মধুপর্ণা। কিন্তু দুপুর থেকে খেলা ঘুরতে থাকে। ১০-১২ রাউন্ড গণনার পর থেকেই লড়াইয়ে ফেরেন সোমা। একসময় তিনি ননদকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ব্যবধান আর কমেনি, বরং বেড়েই চলে। একসময় ব্যবধান ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত ননদকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন বউদি। ২০ রাউন্ড গণনার শেষে সোমা ঠাকুর ৩৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন।
এই রায়কে মানুষের জয়, মতুয়াদের জয় বলে প্রাথমিক বার্তা দিয়েছেন সোমা। শেষপর্যন্ত লড়াইয়ে থাকবেন, সেই কথা বিকেলে জানিয়েছিলেন। পরে অবশ্য আর তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিন দুপুর থেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা গেরুয়া আবির খেলা শুরু হয়। আনন্দে মেতে ওঠেন কর্মীরা।