‘আর জি কর আমরা ভুলিনি, ভুলিনি অভয়াকে, ভুলিনি অভয়ার হত্যাকারীকে’। এই ক’টি বাক্যই যেন আজ গোটা পানিহাটিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ছাব্বিশের ভোটে পানিহাটির ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভয়া আবেগে ভেসে বিজেপির ভোটবাক্স ভরিয়ে দিয়েছেন ঘরে ঘরে মা, বাবা, ভাইবোনেরা। প্রায় ২৭ হাজার ভোটে জিতছেন এখানকার বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ, অভয়ার মা হিসেবে যাঁকে চেনে তামাম বঙ্গবাসী। সোমবার পড়ন্ত বিকেলে গণনাকেন্দ্রে বসে জয়ের খবর পেয়ে তিনি বলছেন, ”ন্যায়ের জয় হয়েছে, তবে লড়াই চলবে।” পানিহাটির ত্রিমুখী লড়াইয়ে দ্বিতীয় তৃণমূল প্রার্থী, প্রাক্তন বিধায়কপুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। অনেকটা আশা জাগিয়েও তৃতীয় স্থানে নেমে এলেন সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।
পূর্বাভাস ছিলই। পানিহাটি কেন্দ্রে রত্না দেবনাথকে যেদিন বিজেপি প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকেই তাঁর জয়ের রাস্তা মসৃণ হয়ে গিয়েছিল। যত দিন এগিয়েছে, তত সেই রাস্তা চওড়া হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন। কথা দিয়েছেন, সন্তানহারা মায়ের দুঃখ ঘুচিয়ে দেবেন, ন্যায় পাইয়ে দেবেন। তবে নির্বাচনী ময়দান বলে কথা! কে, কখন, কাকে বাজিমাত দিয়ে দেয়, তা বলা যায় না। তাই প্রচারের শেষবেলায় রত্নাদেবীর বেলাগাম কিছু মন্তব্য তাঁকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে দিলেও, টেক্কা দিলেন শেষমেশ। সোমবার ব্যালট বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গে গণনায় হু হু করে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। দ্বিতীয় আর তৃতীয় স্থানের টক্কর চলছিল তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ ও সিপিএমের কলতান দাশগুপ্তর মধ্যে। সন্ধ্যে হতে না হতেই ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রায় ২৭ হাজার ভোটে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন রত্না দেবনাথ।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, মেয়েকে হারানোর পর থেকে যে যন্ত্রণায় ভরে গিয়েছিল জীবন, ২০২৬ সালের ৪ মে যেন তার কিছুটা লাঘব হল। এখন রত্নাদেবী শুধু আর অভয়ার মা নন, এখন তিনি গোটা পানিহাটির জনপ্রতিনিধি। নিজের মেয়ের সুবিচারের পাশাপাশি অন্তত ২ লক্ষ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাও দেখভালের দায়িত্ব তাঁর। সেকথা মাথায় রেখেই নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন রত্নাদেবী। বললেন, ”এখানেই আমার লড়াই থেমে থাকবে না। মেয়ের সুবিচার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই জয় তো আমার একার নয়, পানিহাটিবাসীর জয়। তাঁদের জন্য কাজ করব। ঘরে ঘরে মেয়েদের যেন আর কাউকে না হারাতে হয়।” ঠিক যে কথা তিনি বলতেন প্রচারেও। বলতেন, ”আমি জিতলেই পানিহাটি জিতবে।” আজ থেকেই কন্যাহারা রত্নাদেবীর নতুন যাত্রা শুরু হল।