• কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে, বিতর্কের মাঝেও হ্যাটট্রিক পুরুলিয়ার সুদীপের
    প্রতিদিন | ০৫ মে ২০২৬
  • গণনার আগের রাতেই রবিবার মাথায় পদ্ম ফুল নিয়ে নেচে ভাইরাল হয়েছিলেন। সোমবার গণনা শুরু হতেই সেই পোস্টাল ব্যালট থেকে এগিয়ে তিনি। যেমন যেমন এক এক করে রাউন্ড এগিয়েছে। লিড বাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। একবারের জন্য পেছনে পড়েননি। ২২ রাউন্ড শেষ হতেই তাঁর নামের পাশে বিপুল জয়ের হ্যাটট্রিক। পরপর তিনবার জয় পেয়ে পুরুলিয়ায় বিজেপির রীতিমত ‘স্টার’ সুদীপ মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে গেরুয়া ঝড়ে আর হ্যাটট্রিক করতে পারলেন না বান্দোয়ানের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেন।

    শহর পুরুলিয়ার ভাগাবাঁধ পাড়ার বাসিন্দা বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। বয়স ৫০-র বেশি। বিতর্ক যেন তাঁকে পিছু ছাড়ে না। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন। তারপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। একুশের ভোটে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক। ২৬-র ভোটে তিনি প্রার্থী হবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল দলে। লবি রাজনীতির শিকার হয়েও পরে অবশ্য তিনি টিকিট পান। এই আসনে অন্তর্ঘাতে তাঁর হ্যাট্রিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল দলের মধ্যেই। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কেন্দ্রীয়ভাবে সভা ছাড়া তাঁর হয়ে বিজেপির কোন স্টার প্রচারক প্রচার করেননি। ভোট পর্বে তিনি বলেছিলেন, “আমার ভোটাররাই তো স্টার! পুরুলিয়াকে দেখতেই সারা বছর কত পর্যটক এখানে পা রাখেন। আদিবাসী গ্রাম দেখতে যান। পুরুলিয়ার মানুষ-ই স্টার!” বিজেপি বিধায়ক সুদীপের এই কথা ছাব্বিশের ভোটে ব্যাপক ক্লিক করেছে তা বলছে রাজনৈতিক মহল।

    সেই সঙ্গে অবশ্যই গেরুয়া ঝড় রয়েছে। যে ঝড়ে পর পর দু’বার তাঁর সেভাবে কাজ না করা ফিকে হয়ে গিয়েছে। জয়ের পর সুদীপ বলেন, “পুরুলিয়ার মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এই কৃতিত্ব মানুষের। যেখানে যে কাজ করতে পারিনি। এবার তা সম্পূর্ণ করবো।” এবারের ভোটে সুদীপকে নিয়ে প্রচার ছিল তিনি জনসেবা করেন। কিন্তু উন্নয়ন করেননি। সেই সেবাতে যে মানুষের মন পড়ে রয়েছে এদিন গণনা শুরু হতেই তা বোঝা যায়। কোন দুঃস্থ মানুষ রোগ-অসুখে কাতরাতে থাকলে রাত-বিরেতে সহায় হন সুদীপ। এটাই তার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাঁর আচরণকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক হয়। সম্প্রতি বেআইনি বালির কারবার নিয়ে তিনি বিতর্কে জড়ান। দলের কর্মীকেই মারধর করে সমালোচনার মুখে পড়েন গেরুয়া শিবিরে। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের কাউন্সিলর থাকার সময় পুর রেজিউলেশন বাড়িতে নিয়ে আসায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেবা পরায়ণ মন হ্যাটট্রিক করতে সহায়তা করল, এমন কথাই বলছে জেলা রাজনৈতিক মহল। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)