• ‘ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না’, হাল ফিরবে টলিউডের? বঙ্গে ফুলবদলেও সন্দিহান তারকারা
    প্রতিদিন | ০৫ মে ২০২৬
  • রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত হোক টলিউড- বিগত দেড় দশকে একাধিকবার বাংলা সিনেপাড়ায় এমন রব উঠেছে। কখনও বিরোধী শিবির সমর্থক হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের কোণঠাসা হওয়ার খবর ছড়িয়েছে, তো কখনও বা আবার ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগ উঠেছে। তবে সোমবার গৈরিক আভায় নতুন সূর্যোদয় দেখার পরও টলিউডের একাংশ কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরা নিয়ে সন্দিহান। বঙ্গে ফুল বদলালেও টলিউডের হাল কি ফিরবে? প্রশ্ন তুলেছেন সিনেপাড়ার তারকারা।

    আসলে ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়’। বিজেপির বিধ্বংসী জয়ের পরেও সম্ভবত সেকারণেই ইন্ডাস্ট্রির হাল ফেরানো নিয়ে সন্দিহান রূপাঞ্জনা মিত্র, রুপালি ভট্টাচার্য, জীতু কমলরা। একুশে ব্যর্থ হলেও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে অবশেষে বাংলায় পদ্ম ফোটাতে সফল নরেন্দ্র মোদি। সেই প্রেক্ষিতেই সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট জীতু কমলের। অভিনেতা বলছেন, “আশাকরি ফাটকা বাজার থেকে এবার বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আবার ‘ইন্ডাস্ট্রি’র তকমাটা ফিরে পাবে। এতদিন যেভাবে একে-অপরের সাথে সূক্ষ্মভাবে ঝামেলা লাগিয়ে, সেই ঝামেলা মেটানোর নাম করে এক লাখ-দু’ লাখ টাকা আন্ডার টেবিলে চাইতেন, আশা করি সেটা আর নতুন নেতারা করবেন না। শিল্পী-নেতা থেকে সমস্ত ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের কাছে ফোন করে, দিনের পর দিন এসএমএস করে প্রচুর কাকুতি-মিনুতি করেছি,কেউ এগিয়ে আসে নি। এরপরই আমজনতার রায়ে জোর দিয়ে জীতুর সংযোজন, মাথায় রাখবেন আপনিই পারেন নিজের অধিকার বুঝে নিতে। নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি ঢুকতে দেবেন না দয়া করে। বলুন তো,কী করে একজন কোরাপ্টেড মানুষ, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও, যোগ্য মানুষের চাকরি নিজের নামে করে? আবার সেই রকম মানুষ ফোরামের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে বসে থাকেন দিনের পর দিন এবং কলকাঠি নেড়ে চলেন। কেন? ইন্ডাস্ট্রির মাথারা এগুলো জানতেন না? ফোরাম অরাজনৈতিক! এই মিথ্যে কথাটা বলবেন না। সব দলের প্রতিনিধিরা ওখানে আছে সেটা আমরাও জানি, কিন্তু তাদের কতটুকু বলতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়?” এখানেই শেষ নয়!

    জীতুর সংযোজন, “আমি কী অন্যায় করেছিলাম, ওই প্রতীকী প্রতিবাদ করে? যার সব থেকে বেশি বিরুদ্ধচারণ করেছেন ফোরামের বামপন্থী প্রতিনিধিরা। তারা ধান্দা ছাড়া কিচ্ছু বোঝেনা। ‘চার তারিখের পর আমাকে বুঝে নেবেন’- এই কথাও আমার কানে এসেছে। ওই যে বলেছিলাম, আপনারা আমার কাজ খেতে পারেন, মূল্যবোধ নয়।” অন্যদিকে সিনেইন্ডাস্ট্রির কাজের নিয়মবিধি নিয়ে রূপাঞ্জনা মিত্র একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। পদ্মত্যাগ করার পর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে বহুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্তুতি করে ‘শাসক ঘনিষ্ঠ’র তকমা পেয়েছিলেন। সেই অভিনেত্রী এবার প্রশ্ন রাখলেন, “এবার এগোতে পারবো তো আমরা? ভোট হয়ে যাওয়া অবধি থামতে বলা হয়েছিল। কাজের জায়গায় কতটা সময় কাজ করব? শিল্পীদের মাইনে কি এক মাসের জায়গায় সেই পঞ্চান্ন দিন পরে পাওয়া যাবে? মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদে কি এখনও লীনা গঙ্গোপাধ্যায় থাকবেন?” বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পর বিদায়ী শাসক দলের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক রুপালি ভট্টাচার্য। অভিনেত্রীর মন্তব্য, “এত বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয় শিল্পী কিনে অথবা নিজের দলের কাটমানি দালালদের লেলিয়ে দুর্বৃত্তায়ন করে আমাদের অভিনয় জগৎ দখল করে রেখেছিলেন। নতুন সরকার এসে আমরা যারা অভিনয় করতে চাই এবং যোগ্য, তারা যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করতে পারব? নাকি এরাও তৃণমূলের রাস্তায় হাঁটবে, সেটাই দেখার। আমরা শিল্পী আমরা সেই সম্মান দাবী করি যে কোনও সরকারের কাছেই। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)