বহরমপুর তাঁর গড়। গোটা এলাকাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তিনি অধীর চৌধুরী। বহরমপুর বললে, এক নিঃশ্বাসে তাঁর নামটাও উচ্চারণ করতে হয়। কিন্তু গত লোকসভা ভোট থেকে সেই সম্পর্কের সমীকরণটা টাল খেতে শুরু করে। সোমবার ভোট গণনার শেষেও ছবিটা বদলাল না। বহরমপুর কেন্দ্রে বিজেপির সুব্রত মৈত্রের কাছে ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হলেন তিনি।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনটা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না অধীর। রাজনীতিতে নবাগত তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। টানা পাঁচ বারের সাংসদ অধীরের এমন পরাজয় দেখে চমকে উঠেছিলেন রাজনীতির কারবারিরা। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদও খোয়াতে হয়েছিস। শুধু তাই নয়, দলেও কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তবে ময়দান ছাড়েননি তিনি। আঁকড়ে ধরেন মুর্শিদাবাদকেই।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর থেকে তাঁকেই প্রার্থী করে কংগ্রেস। দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন, তাঁর উপরে বাজি না ধরলে, আর কে! জেলার বাকি ২১টি কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকেই। বহরমপুর গার্লস কলেজে ভোট গণনা শুরুর পর থেকেই পিছিয়ে পড়েন অধীর। শেষ পর্যন্ত বিজেপির সুব্রত মৈত্রের কাছে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে হার মানতে হয় তাঁকে। এর আগে বিধানসভা ভোটে একবারই হেরেছিলেন। ১৯৯১ সালে সিপিএমের মোজাফফর হোসেনের কাছে।
রাজনৈতির বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় মেরুকরণের কাছেই হেরে গিয়েছেন অধীর। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের মতো এ বারও মুসলিম ভোট ভাগ হয়েছে। আর হিন্দু ভোট এককাট্টা হয়েছে। হিন্দু ভোটার অধ্যুষিত বহরমপুর বিধানসভার ভোট গিয়েছে বিজেপির সুব্রত মৈত্রর ঝুলিতে। গণনার শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিলেন তিনি। ক্রমশ ব্যবধান বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত আর জয়ের মুখ দেখতে পারেননি তিনি।
সন্ধ্যায় নিজের হার স্বীকার করে নিয়ে অধীর বলেন, ‘সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে বিজেপি ঝড় সকলকে কুপোকাত করেছে, আমিও তাতে হেরেছি। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ভোটে হেরেছি।’ আর জয়ী বিজেপি কর্মী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করে পদ্মশিবিরের প্রার্থী সুব্রত মৈত্র বললেন, ‘এই কেন্দ্রের ভোটাররা অধীরবাবুর মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন। এই জয় নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি কর্মীদের উৎসর্গ করছি।’