আইপিএল ম্যাচের মতো উত্তেজনা। কখনও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে গেলেন। কখনও তাঁকে টপকে গেলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তবে শেষ হাসি তিনিই হাসলেন। সোমবার গণনা শেষে ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়ে দিলেন শুভেন্দু। পর পর দুটি নির্বাচনে মমতাকে হারানোর রেকর্ডও গড়লেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুরে ৭৩,৯১৭ ভোট পেয়েছেন শুভেন্দু। অন্য দিকে মমতার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫৮, ৮১২। ব্যবধান ১৫,১০৫ ভোটের। শুধু ভবানীপুরে নয়, নন্দীগ্রামেও শুভেন্দুরই জয়জয়কার হয়েছে। ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩০১ ভোট পেয়েছেন তিনি। তৃণমূলের পবিত্র করকে পরাজিত করেছেন ৯,৬৬৫ ভোটে।
ভবানীপুরে ২০ রাউন্ডের গণনা ছিল। প্রথম রাউন্ড থেকেই স্নায়ুর চাপ বাড়ছিল দুই পক্ষেরই। কখনও শুভেন্দু এগোলেন, কখনও মমতা। প্রথম কয়েকটা রাউন্ড এ ভাবেই কাটল। রবিবার শুভেন্দু এমনই একটা হিসেব দিয়েছিলেন। প্রায় সেই রকমই হলো। প্রাথমিক কয়েকটি রাউন্ডে মমতা রাশ ধরে নিলেন। টানা পনেরো রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন তিনি। তবে সপ্তম রাউন্ড থেকেই ব্যবধান কমাতে শুরু করেছিলেন শুভেন্দু। একটু একটু করে এগোচ্ছিলেন তিনি। পনেরো রাউন্ড পেরোতেই এক ধাক্কায় এগিয়ে যান। তার পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শুভেন্দুকে। ক্রমশ ব্যবধান বেড়েছে।
দুপুরে দিকে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের সামনে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। সেই খবর পেয়ে ঘাঁটি গেড়েছিলেন শুভেন্দুও। তার পর থেকে সেখানেই ছিলেন দু’জন। সন্ধ্যায় কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি থাকতেই বেরিয়ে যান মমতা। তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুভেন্দুর জয় ঘোষণা করে কমিশন। জয়ীর সার্টিফিকেট হাতে সাংবাদিকদের মিষ্টি খাওয়ান তিনি।
একুশের নির্বাচনে ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ আর নন্দীগ্রামকে ‘মেজোবোন’ বলেছিলেন মমতা। সেই ভোটে ‘মেজোবোনের’ কেন্দ্র থেকে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। এ বার হারতে হলো ‘বড়বোনের’ কেন্দ্রেও। আর তার সঙ্গেই বাংলার রাজনীতির এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো।