এই সময়: রবিবার রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন সবার মুখে ছিল, কে ক্ষমতায় আসছে? বিজেপি না তৃণমূল?
সোমবার দুপুরের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিজেপি–ই বসতে চলেছে বাংলার মসনদে। ফলে এ দিন সন্ধ্যার পর থেকে একটি নতুন প্রশ্ন ভাসতে শুরু করেছে বঙ্গ–রাজনীতির অন্দরে— কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
হবু মুখ্যমন্ত্রীর নাম ফাঁস না করলেও কোন ব্যক্তি এই পদের দাবিদার, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিভিন্ন নির্বাচনী সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলায় বড় হওয়া, বাংলায় পড়াশোনা করা কোনও বাঙালি বিজেপি নেতাই এ রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’ ঘটনা হলো, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার যোগ্যতা আছে, বাংলায় এ রকম বিজেপি নেতার সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। তৃণমূলনেত্রী তথা রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গ ভবানীপুরে গিয়ে তাঁকে এ বার হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১–এর বিধানসভা নন্দীগ্রামে গিয়ে তাঁর কাছে পরাজিত হয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার নন্দীগ্রাম থেকে তো শুভেন্দু জিতেইছেন, রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া ফল অনুযায়ী ১৭ রাউন্ডের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনায় ৬,২২৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু। ফলে তিনি যে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার অন্যতম দাবিদার, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
২০১৯–এর লোকসভা ভোটে দিলীপ ঘোষের জমানায় এ রাজ্যে বিজেপি এক ধাক্কায় ১৮টি আসন পেলেও ২০২১–এর বিধানসভা ভোটে দলের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিজেপিকে বঙ্গ–জয়ের স্বাদ দিতে পারেননি। ৭৭–এই শেষ হয়ে গিয়েছিল পদ্মের স্বপ্ন। সেই জয়ের স্বাদ দিয়েছেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর জমানাতেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় পদ্মের শাসন কায়েম হলো। ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন শমীকও। যদিও তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। বিধানসভা ভোটে লড়েননি এ বার। তবে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসালে নিময় মেনে ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি আসন থেকে তাঁকে জিতে আসতে হবে।
উত্তরবঙ্গ থেকে তৃণমূলকে কার্যত ধুয়ে–মুছে সাফ করে দিয়েছে বিজেপি। তাই উত্তরবঙ্গ থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক, এই দাবিও উঠেছে বিজেপির অন্দরে, যা অতীতে কখনও হয়নি। সেক্ষেত্রে সব থেকে সম্ভাবনাময় নাম কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের। শুভেন্দু–শমীকের সঙ্গে সমান তালে সুকান্তকেও জেলায় জেলায় ঘুরে নির্বাচনী প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘বিজেপি খুবই আনপ্রেডিক্টেবল দল। হয়তো এঁদের মধ্যে কাউকেই মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দেওয়া হলো না। এমন কোনও বিধায়ককে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসাতে পারেন, যিনি সেই অর্থে বঙ্গ–রাজনীতির পরিচিত মুখ–ই নন। বিজেপিতে সব সম্ভব। মধ্যপ্রদেশ, দিল্লিতে যেমন হয়েছে।’ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৯ মে শপথ নেবেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে আর দিন চারেক। তার মধ্যেই বিজেপিকে ঘোষণা করতে হবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম।