• বর্ধমান থেকে দিল্লি উড়ে গেল সীতাভোগ–মিহিদানা! চলল ঝালমুড়ি বিলি
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি

    মৌসম ভবনের পূর্বাভাস ছিল, সোমবার সারাদিন দিল্লিতে প্রবল ঝড়–বৃষ্টি হবে৷ সেই পূর্বাভাস না মিললেও দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে, বিজেপির সদর দপ্তরে উঠল গেরুয়া আবির ও উচ্ছ্বাসের ঝড়! দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে বাংলা বিজয়ের উত্‍সব দেখে মনে হচ্ছিল, একটি রাজ্যের বিধানসভা ভোট নয়, বিজেপি যেন একটি বড় যুদ্ধ জিতেছে৷

    দুপুর নামার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের প্রাসাদোপম সদর দপ্তরে বাড়তে থাকল ভিড়৷ ততক্ষণে হাজির দিল্লির ট্রেডমার্ক তাসা–ঢোল–কাড়া–নাকাড়া৷ সঙ্গে আতসবাজি, দোদোমা৷ ঘড়ির কাঁটা দুপুর একটা ছোঁয়ার আগেই বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের ছবিটা মোটামুটি স্পষ্ট। আর সেটা বুঝেই বিজেপির সদর দপ্তরে শুরু হল ঝালমুড়ি বিতরণ৷ বিজেপির যাবতীয় মুখপাত্র থেকে শুরু করে প্রথম সারির নেতা— সবাই ততক্ষণে ব্যস্ত ঝালমুড়ি ঝালের স্বাদ নিতে৷ বিজেপির বর্ষীয়ান সাংসদ অনিল বালুনির উত্‍সাহ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ দলের মুখপাত্র এবং পরিচিত সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে ঝালমুড়ি খাওয়ান তিনি৷ বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র এবং আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া ঝালমুড়ির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার রাজভোগ মুখে পুরে বললেন, ‘বাংলায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির অবসান হয়েছে৷ দেখবেন, এখন ডাবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকারের রাজত্বে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে৷’

    বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী আবার দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যকে আধ্যাত্মিক ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন৷ তাঁর মতে, ‘এর আগে আমরা অসমের মা কামাখ্যার আশীর্বাদ পেয়েছি৷ মা ত্রিপুরেশ্বরীর আশীর্বাদ পেয়েছি৷ শুধু মা কালীর আশীর্বাদ বাকি ছিল৷ এবার মা কালীও আমাদের আশীর্বাদ করেছেন৷ এ বার আক্ষরিক এবং বাস্তবিক ভাবেই বাংলায় বিকাশ হবে৷’ ঝালমুড়ি আর মিষ্টি দইয়ের স্বাদ নিতে ভোলেননি বিজেপি নেতা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ও৷ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসার আগে পর্যন্ত চলে এই ঝালমুড়ির ‘ক্রেজ’৷

    সূত্রের দাবি, বিজেপি সদর দপ্তরে এ দিন আনা হয়েছিল বর্ধমানের মিহিদানা এবং সীতাভোগও৷ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মিষ্টিমুখ করানো হবে সীতাভোগ ও মিহিদানা দিয়ে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই বর্ধমান থেকে আইস প্যাকে সংরক্ষণ করে সীতাভোগ আর মিহিদানা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বিজেপির দুই প্রথম সারির নেতা৷ রাতে বিজেপি সদর দপ্তরে আয়োজিত বৈঠকের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই সীতাভোগ ও মিহিদানা তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও বিজেপি সূত্রের দাবি৷

    এ সবের মধ্যেই সোমবার দুপুর থেকে দিল্লিতে বিজেপি সদর দপ্তরে চলছিল সন্ধ্যার উত্‍সবের প্রস্তুতি৷ বিশাল সাউন্ড বক্সে ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৈরি গান ‘পাল্টানো দরকার’৷ সন্ধ্যা সাতটার সামান্য আগে ধুতি–পাঞ্জাবি পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপি সদর দপ্তরে পৌঁছনোর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বাজছিল এই গান৷ সঙ্গে ছিল লাল পাড়, সাদা শাড়ি পরা অনেক বাঙালি মহিলাদের শঙ্খ এবং উলুধ্বনি৷ দপ্তরের বাইরে প্রথমে গেরুয়া আবির নিয়ে মাখামাখি হয়৷ পরে চলে আসে সবুজ আবিরও৷ কিন্তু সবুজ আবির তো তৃণমূলের প্রতীক? বিজেপির এক নেতার পাল্টা প্রশ্ন, ‘তৃণমূল ওয়ালে নে ইয়ে খরিদ লিয়া কেয়া?’

    বিজেপি অফিসে যখন এই উচ্ছ্বাস, ঠিক সেই সময়ে দিল্লির রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে অবস্থিত তৃণমূলের অফিসে কাকপক্ষীও নেই! অফিসের বাইরে পাহারারত দিল্লি পুলিশের এক জওয়ান জানান, তিনি সকাল থেকে কোনও নেতা–নেত্রীকে এখানে আসতে দেখেননি৷ ২৪ আকবর রোডে অবস্থিত কংগ্রেস অফিসে অবশ্য এ দিন কিছুটা উৎসবের মেজাজ ছিল কেরালায় দলের সাফল্যকে কেন্দ্র করে৷

  • Link to this news (এই সময়)