অশীন বিশ্বাস
ভোটের আগে ও ভোটের দিন ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল নজিরবিহীন ভাবে শান্ত থাকলেও, সোমবার গণনার দিন খাস গণনাকেন্দ্রের ভিতরেই বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটে। তার মধ্যেই সৌজন্যের নজির গড়লেন ভাটপাড়া কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী পবন সিং। গণনাকেন্দ্রের মধ্যে যখন বিজেপির বিরুদ্ধে দুই তৃণমূল প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, তখন বিজয়ী হওয়ার পর নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তাকে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে নিরাপদে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে নিয়ে যান অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন।
সোমবার ব্যারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত ছ'টি বিধানসভার গণনা শুরু হয় ব্যারাকপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। বেলা গড়াতেই দেখা যায় ছ'টি বিধানসভায় লিড বাড়ছে বিজেপির। একের পর এক কেন্দ্র থেকে দলের প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বাড়তে থাকে উৎসাহ। তারই মধ্যে গণনাকেন্দ্রের ভিতরেই বীজপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী আক্রান্ত হন। আক্রান্ত হন নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যও। দু'টি ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে বিজেপির দিকে।
কিন্তু বিক্ষিপ্ত গোলমালের মধ্যেই রাজনৈতিক সৌজন্যের চূড়ান্ত নিদর্শন রাখেন ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন কুমার সিং। নির্বাচনে তাঁর মূল প্রতিপক্ষ তৃণমূলের প্রার্থী অমিত গুপ্তাকে আগলে রাখেন পবন। নিজের নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্য নিয়ে গণনা কেন্দ্র থেকে পবন বের করে নিয়ে যান অমিত গুপ্তাকে। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বাহুবলী নেতা হিসেবে পরিচিত অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন ২০১৯–এর উপনির্বাচনে ভাটপাড়া কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন। এ বারও তিনি জিতলেন প্রায় (সম্ভাব্য ২১ হাজার) ভোটে। পরে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থীও পবনের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা স্বীকার করে নেন। অমিত গুপ্তা বলেন, 'ভাটপাড়া আমাদের ছিল না। আমরা এ বার চেষ্টা করেছিলাম জেতার। মানুষের রায় মাথা পেতে নেব। তবে বিজয়ী প্রার্থী পবন সিং আজ যে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখাল সেটা মন ছুঁয়ে গেল।' পবন বলেন, 'আমি এ বার জয়ের হ্যাটট্রিক করলাম। কিন্তু এ বারের জয় আলাদা। আমরা সরকার গড়ছি, ফলে বিগত দু'বার যে যে কাজ করতে পারিনি এ বার সেই সমস্ত কাজ করে দেখাব।'