এই সময়: দু’টোই সাধারণ খাবার। ঝালমুড়ি আর মাছ। তবে বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে আপাত সাধারণ, দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়ে থাকা এই দুটো খাদ্যবস্তুই হয়ে উঠেছিল নির্বাচনের ইস্যু। সোমবার ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পরেও রাজনীতি আর বিজেপির জয়ের আনন্দ ঘুরপাক খেল এই মাছ আর মুড়িতে!
রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের আগে ঝাড়গ্রামে একটি সভা করতে গিয়ে সবাইকে এক রকম অবাক করে দিয়ে স্থানীয় একটি ঝালমুড়ির দোকানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পকেট থেকে ১০ টাকা বার করে ঝালমুড়ি কেনেন। সেই ভিডিয়ো এখনও ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। আবার, বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূলের অস্ত্র ছিল মাছ। বিজেপি এ রাজ্যের ক্ষমতায় এলে বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে— এই কথা বার বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের আরও কয়েক জন নেতা–নেত্রীর প্রচারে উঠে এসেছে। পাল্টা বিজেপি প্রার্থী ও নেতাদের একাংশও মাছ–বিরোধী তকমা ঘোচাতে মাছ হাতে প্রচার করেছেন। হিমাচল প্রদেশ থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর এ রাজ্যে প্রচারে এসে মাছ–ভাতও খেয়েছেন। বিজেপি প্রচার করেছে, খাদ্যাভাসে কোনও রকম হস্তক্ষেপ করা হবে না।
ভোটের ফল প্রকাশের পরে দেখা গেল, একদিকে ঝালমুড়ি এবং অন্য দিকে মাছ-ভাতেই জয়ের উদযাপনের সুরটা বেঁধেছে বিজেপি। এমনকী, ঝালমুড়িকে তো সোমবার কার্যত সর্বভারতীয় স্তরে তুলে যায় গেরুয়া শিবির। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সদর কার্যালয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য একেবারে টেবিল পেতে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। দলের সাধারণ কর্মী ও নেতাদের জন্য মূল ভবনের বাইরে তিনটি কাউন্টার করে শালপাতায় মোড়া ঝালমুড়ি বিলি করা হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওডিশায় বিজেপির বিভিন্ন পার্টি অফিস থেকে ঝালমুড়ি বিলি করেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির পুরোনো পার্টি অফিসে একই ভাবে কর্মীদের মধ্যে ঝালমুড়ি বিলিয়ে জয়ের আনন্দ উদযাপন করেন বিজেপি নেতারা।
কেবল ঝালমুড়ি নয়, এ দিন পদ্ম শিবিরে ঢালাও ব্যবস্থা ছিল মাছ-মাংসেরও। ভবানীপুরে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের বাইরে বিজেপি কর্মীদের জন্য চিকেন বিরিয়ানির ব্যবস্থা। আবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে সোমবার লাঞ্চের মেনুতে ছিল দই–কাতলা, সাদা ভাত, মুগের ডাল, ঝুরঝুরে আলু ভাজা। মাছ নিয়ে কোনও কাপর্ণ্যও ছিল না। নেতা–কর্মীদের অনেকে দু’পিস–তিন পিস মাছও খেয়েছেন জয়ের আনন্দে।