এই সময়: রাজ্যে পালাবদল নিশ্চিত হতেই নিয়োগ–দুর্নীতিতে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীরা ‘পুনর্নিয়োগে’র দাবি উসকে দিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে, এই রায় দিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬–র ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিল করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট। আবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই এখন নবম–দশম ও একাদশ–দ্বাদশে শিক্ষক–শিক্ষিকা নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পরীক্ষাও হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশে পালাবদল নিশ্চিত হতেই ‘যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা’রা রাজ্যের ভাবী সরকারি দলের প্রতি খোলা আবেদন রেখেছেন। তাঁদের আর্জি—বিগত রাজ্য সরকারের দুর্নীতির কারণে ১৫,৪০৩ জন বৈধ ভাবে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট ফ্রেশ সিলেকশনের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তা এখনও সার্বিক ভাবে সম্পন্ন হয়নি। গেজেট ও নোটিফিকেশনের ভিত্তিতে নতুন পরীক্ষা হলেও তা বর্তমানে শীর্ষ আদালতের বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই আপাত ভাবে আনটেন্টেড আগের দফার শিক্ষক-শিক্ষিকারা ৩১ অগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বহাল রয়েছেন। সেই সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। চাকরিহারা ‘যোগ্য’দের তরফে নতুন সরকারকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বাহ্যিক উত্থান-পতনের মধ্যে তাঁদের অবস্থা সঙ্কটজনক। একাদশ–দ্বাদশের পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ সম্পন্ন হলেও জয়েনিং হয়নি। আবার নবম–দশমের পরীক্ষা হলেও এখনও ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়নি।
এই প্রক্রিয়া ৩১ অগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়েও ঘোর সংশয় রয়েছে। তার উপরে আগের দফার প্রায় দেড় হাজার অানটেন্টেড শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বিতীয় বারের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্টে যোগ্য শিক্ষক–শিক্ষিকাদের তরফে কিউরেটিভ পিটিশন ফাইল করা হয়েছে। এই অবস্থায় নতুন সরকারের তরফেও কিউরেটিভ পিটিশন ফাইল করা হোক এবং তার মাধ্যমে ২০১৬–র আনটেন্টেড শিক্ষক–শিক্ষিকাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক—এই দাবি উঠেছে।
চাকরিহারারা মনে করিয়েছেন, ‘নিষ্কলঙ্ক’ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ ও তাঁদের পরিবারের অবস্থা প্রায় মৃত্যু–পথযাত্রীর মতো। আগের সরকারের দুর্নীতির কারণেই তাঁদের চাকরি গিয়েছে। এখনও তাঁরা ন্যায়বিচার পাননি। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন—চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ন্যায়বিচার পান, সেই ব্যবস্থা করা হোক।