• ‘অঘটন’ নয়, স্বাভাবিক, পদ্মের ‘আনকোরা’ ব্রিগেডে জোড়াফুল শিবিরে ‘ইন্দ্রপতন’
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

    সে বার দমদম লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। ১৯৮৪–তে বামফ্রন্ট সরকারের সূর্য তখন মধ্যগগনে জ্বলজ্বল করছে। সে বছরের ভোটে ডাকসাইটে সিটু নেতা নীরেন ঘোষের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আশুতোষ লাহার। তবে ওই পর্যন্তই। ভোটে জেতার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই ধরে নিয়েই রেজ়াল্টের দিন গণনাকেন্দ্রে পর্যন্ত যাননি আশুতোষ। দুপুরে খেয়েদেয়ে ভাতঘুম দিচ্ছিলেন বাড়িতে। সেই সময়ে তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলা হয়, ‘আপনি জিতে গিয়েছেন’! শুধু জেতেননি, সে বার ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়েছিলেন তিনি। ২০২৬–এর বিধানসভায় অনেকটা তেমনই অবস্থা বিজেপি প্রার্থীদের বড় অংশের। রাজনীতির ময়দানে এঁদের অনেকেই আনকোরা। অথচ এঁরাই হয়ে উঠলেন ‘জায়ান্ট কিলার’, ‘অঘটনের কেন্দ্রীয় চরিত্র’।

    বাংলার ভোটযুদ্ধে যাদবপুরকে মোটের উপর ‘আপসেট পয়েন্ট’ বলা যায়। ১৯৮৪–র লোকসভায় সিপিএমের হেভিওয়েট সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্র থেকেই পরাজিত করেছিলেন তখনকার বঙ্গ–রাজনীতিতে আনকোরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১–য় মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল যখন বাংলায় ক্ষমতায় আসে, সে বার ‘আপসেট সেন্টার’ যাদবপুরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে হারিয়েছিলেন ভোট ময়দানে প্রথম খেলতে নামা মণীশ গুপ্ত। এ বারও ব্যতিক্রম হলো না। রাজনীতিতে আনকোরা শর্বরী মুখোপাধ্যায় হারিয়ে দিলেন তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদারকে। ২০১৬–য় যাদবপুরেরই বিধায়ক হয়েছিলেন দেবব্রত। জয়ের পরে ‘এই সময়’–কে শর্বরী বলেন, ‘এটা কোনও আপসেট রেজ়াল্ট নয়। যাদবপুরের মানুষ যে কতটা বিরক্ত, এটা তারই প্রতিফলন।’

    ২০২১–এর ভোটে বামেদের ভরাডুবি এবং তৃণমূলের জয়জয়কারের অন্যতম কারণ ছিল সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন। সোমবার দেখা গেল, এ বারের নির্বাচনে সিঙ্গুর–আন্দোলনের প্রথম সারির সংগঠক বেচারাম মান্নাকে হারিয়েছেন প্রায় অপরিচিত অরূপ দাস। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গুরের মানুষ ১৫ বছর আগে যে ভুল করেছিলেন, এতদিনে তার প্রায়শ্চিত্ত হলো। যে সিঙ্গুরে তৃণমূলের উত্থান, তাদের সমাধি দিল সেই সিঙ্গুর।’

    এ বার শ্যামপুকুরে হেরে গিয়েছেন তৃণমূলের মন্ত্রী শশী পাঁজার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীও। শশীকে হারানোর ঘোর কাটতেই অনেকটা সময় লেগেছে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তীর। একই অবস্থা দমদমের পদ্ম–প্রার্থী অরিজিৎ বক্সীর। ২০১১–য় দমদম কেন্দ্রে সিপিএমের গৌতম দেবকে হারিয়ে ‘জায়ান্ট কিলার’ হয়েছিলেন ব্রাত্য বসু। সোমবার ব্রাত্যকে হারিয়ে অরিজিৎ বলেন, ‘১৫ বছর আগে উনিও (ব্রাত্য) রাজনীতিতে আনকোরা ছিলেন। হারিয়েছিলেন গৌতম দেবকে। দমদমে একটা চক্র পূর্ণ হলো।’

    বিধাননগরে তৃণমূলের আরও এক হেভিওয়েট ক্যান্ডিডেট সুজিত বসুকে হারানোর পরে বিজেপির শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোট দিতে পারলে অনেক আগেই এমন ফল হতো। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।’

  • Link to this news (এই সময়)