• রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে কাটল শূন্যের গেরো, ২০১৬-র পরে ফের বিধানসভায় বামেরা
    এই সময় | ০৫ মে ২০২৬
  • প্রসেনজিৎ বেরা

    শূন্য থেকেই এ বার শুরু করেছিল সিপিএম। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণ এ বার বন্ধ করতে পারল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বামেরা শূন্য হয়ে যায়। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট বিধানসভায় একজনও প্রতিনিধি পাঠাতে পারেনি। বামেরা রাজ্যে খাতা খুলতে না পারেনি ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনেও। অবশেষে ২০২৬–এর ভোটে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকেই শূন্যের ফাঁড়া কাটাল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

    মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল, কংগ্রেস, বিজেপি ও বামেদের চতুর্মুখী লড়াইয়ে সিপিএমের ‘মাস্টারমশাই’ মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) জয়ী হয়েছেন। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই সিপিএম মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সৃজন ভট্টাচার্য, দীপ্সিতা ধর, সায়নদীপ মিত্র–সহ একদল তরুণ মুখকে ভোটযুদ্ধে নামিয়েছিল। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই থেকেই মোস্তাফিজুর উঠে এসেছেন। এক সময়ে শিক্ষকতা করেছেন। কিন্তু মীনাক্ষী, সৃজন, শতরূপ, দীপ্সিতাদের মতো প্রচারের আলোয় না থেকে মুর্শিদাবাদে নীরবে কাজ করে গিয়েছেন সিপিএমের জেলা কমিটির এই সদস্য। ২০২১–এ মোস্তাফিজুর প্রার্থী হলেও পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু এ বার আলিমুদ্দিন স্ট্রিট অনেক অঙ্ক কষে মোস্তাফিজুরকেই ফের প্রার্থী করে। মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোড়াফুলের প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর এবং কংগ্রেস প্রার্থী শাহনাজ বেগমকে পরাজিত করে ১৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন মোস্তাফিজুর। যিনি দক্ষ সংগঠক হিসেবেও দলের অন্দরে পরিচিত।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ব্যাখ্যা, ‘ভোট কাটাকাটির ফলে মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় আমরা বেশ কিছু আসনে পরাজিত হয়েছি। এই ভোট কাটাকাটির প্রভাব নদিয়া ও উত্তর দিনাজপুরেও পড়েছে। অনেক চেষ্টা করেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়নি। কিন্তু তৃণমূলের পতন হওয়ায় দুই ফুলের বাইনারি শেষ হতে চলেছে। আগামী দিনে বামপন্থীদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।’

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, গেরুয়া শিবিরের আদর্শগত প্রতিপক্ষ কমিউনিস্টরা। গেরুয়া শিবির বনাম লাল ব্রিগেডের লড়াই যে আগামী দিনে তীব্র হবে, সোমবার ভোট ফল প্রকাশের পরেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সেটা বুঝতে পেরেছে। যাদবপুর ৮–বি স্ট্যান্ডে লেনিনের মূর্তিতে কালি লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই খবর পেয়েই সৃজন ভট্টাচার্য–সহ সিপিএম কর্মী–সমর্থকরা সেখানে গিয়ে কালি মুছে দেন। ত্রিপুরায় বাম জমানার পতন হওয়ার পরে সেখানে বুলডোজ়ার দিয়ে লেনিন মূর্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যাদবপুরে লেনিনের মূর্তিতে কালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘কেন লেনিন মূর্তিতে কালি লাগানো হবে? আমরা রুখে দিয়েছি। বিজেপিকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, ওখানেই তৃণমূল লেনিন মূর্তি ভাঙচুর করেছিল। বিজেপি তৃণমূলের কায়দাতেই একই কাজ করতে গিয়েছিল।’ সিপিএম–সহ বামেদের প্রাপ্ত মোট ভোট প্রায় ৫ শতাংশ। ২০২১–এও এই হার ছিল ৫ শতাংশের আশপাশে। বামেদের জোটসঙ্গী আইএসএফ–র নওশাদ সিদ্দিকি ভাঙড়ে জয়ী হয়েছেন। সিপিএম এবং আইএসএফ মোট ১২টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলে শেষ পাওয়া তথ্য থেকে দাবি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের।

  • Link to this news (এই সময়)