শ্রেয়সী পাল: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই গ্রেপ্তার হলেন নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজ্জামান শেখ যিনি হাবিব মাস্টার নামে পরিচিত। গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচনের দিন নওদা বিধানসভা এলাকায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার শফিউজ্জামানকে বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে।
যদিও শফিউজ্জামানের গ্রেপ্তারিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা শফিউজ্জামানের মামা আবু তাহের খান বলেন,"রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। অথচ হুমায়ুন কবীরের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে তারা তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করছে। এর থেকে স্পষ্ট হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাত রয়েছে। তা না হলে ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার এতদিন পরে কেন শফিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হলো?"
প্রসঙ্গত গত ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলায় বিধানসভা নির্বাচনের দিন নওদা বিধানসভার অন্তর্গত শিবনগর এলাকায় একটি বুথের কাছে 'আক্রান্ত' হন হুমায়ুন কবীর। সেই হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শফিউজ্জামানের বিরুদ্ধে।
ভোটের দিন সকাল দশটা নাগাদ শিবনগর এলাকায় একটি বুথে ঢোকার চেষ্টা করতেই শফিউজ্জামান তাঁর দলবল নিয়ে হুমায়ুনের উপর হামলা করার চেষ্টা করেন। দু'তরফের তুমুল বাকবিতণ্ডার পর কোনওক্রমে হুমায়ুনের দেহরক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দেন।
পরে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই এলাকায় পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনার পর ওই এলাকা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে। শফিউজ্জামানের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ওই এলাকা ছেড়ে হুমায়ুন কবীরকে বের হতে দেয়নি। এর প্রতিবাদে হুমায়ুনও পথ অবরোধ করেছিলেন।
এরপর পুলিশ যখন হুমায়ুনকে ওই এলাকা থেকে বের করার চেষ্টা করে, তখন তৃণমূল কর্মীরা তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।
তৃণমূল কর্মীদের হামলায় বেশ কয়েকজন হুমায়ুন-সমর্থক ওই দিন আহত হন। শফিউজ্জামান এবং তাঁর দলবলের হাতে আক্রান্ত হওয়ার পরই হুমায়ুন গোটা ঘটনাটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছিলেন।
এরপর কমিশনের নির্দেশে শফিউজ্জামানের বিরুদ্ধে নওদা থানায় এফআইআর রুজু হয়। সেই মামলায় সোমবার প্রায় রাত দেড়টা নাগাদ শফিউজ্জামানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তবে আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে শফিউজ্জামানকে গ্রেপ্তারির পর রাতেই তাঁকে নওদা থেকে বহরমপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নওদা বিধানসভার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ''একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটের দিন আমার সমস্ত বুথে যাওয়ার অধিকার ছিল। অথচ শিবনগর এলাকায় একটি বুথ থেকে মাত্র ২০ মিটার আগে শফিউজ্জামানের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা আমার উপর হামলা চালায়। গোটা ঘটনাটি আমরা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশকে জানিয়েছিলাম।সেই মামলায় গতকাল রাতে শফিউজ্জামান গ্রেপ্তার হয়েছে। "
হুমায়ুন বলেন,"আমি বলে দিয়েছিলাম যদি শফিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার না করা হয় তাহলে মঙ্গলবার নওদা থানা ঘেরাও করবো। তবে তার আগেই ওই তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন।"