নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুতে বিজয় উদয়! প্রথমবার রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করেই সুপারস্টার ‘থালাপতি’ বিজয় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা! অন্যদিকে, কেরল থেকে বিদায় ঘটল বাম জোটের। প্রথা মেনেই দক্ষিণের এই রাজ্যে পুনরায় ক্ষমতাসীন হল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ, যা বিজেপির জন্য মোটেই সুখের বার্তা নয়। তবে দক্ষিণ ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এনডিএ জোটেরই জয় এসেছে। দক্ষিণ থেকে সুসংবাদ এলেও উত্তর পূর্ব ভারত অবশ্য কংগ্রেসের জন্য দিয়েছে দুঃসংবাদ। অসমে হ্যাটট্রিক করেছে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিজেপি। কংগ্রেস শুধু পরাজিত হয়নি, তাদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী গৌরব গগৈও পরাজিত।
সিনেমার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তামিল রাজনীতি। চিত্রনাট্যকার ছিলেন করুণানিধি। আর সুপারস্টার নায়ক এম জি রামচন্দ্রণ। অভিন্নহৃদয় দুই বন্ধু রাজনীতির ময়দানেও ছিলেন প্রবল জনপ্রিয়। সাতের দশকে বন্ধুত্বে চিড় ধরে এবং এমজিআর নিজের পৃথক দল গঠন করেন— এআইএডিএমকে। জনপ্রিয়তার স্রোতে ভেসে যায় তাঁর দল। এমজিআরের মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গিনী আর এক সুপারস্টার জয়রাম জয়ললিতা সেই দলের হাল ধরেন। এবং জয়ললিতাও একক ক্যারিশমায় হয়ে ওঠেন তামিল রাজনীতির গ্ল্যামার কুইন। কিন্তু করুণানিধি ও জয়ললিতার মৃত্যুর পর বিগত বছরগুলিতে রূপোলি পর্দার গ্ল্যামারহীন হয়ে ছিল তামিল রাজনীতি। অবশেষে পুনরায় পর্দার সুপারস্টার ‘লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজ’ প্রতিষ্ঠা করলেন ভোট-যুদ্ধে। থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের একচ্ছত্র আধিপত্যকে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং এম কে স্ট্যালিন নিজেই পরাজিত। বিজেপির সঙ্গে জোট করেও বিজয়ের অগ্রগতি রুখতে পারল না এআইএডিএমকে। তারা তিন নম্বরে নেমে গিয়েছে। বিজেপি পেয়েছে শূন্য। এবারের ভোটে দেশে আক্ষরিক অর্থে শূন্যে পরিণত হল বামেরাও। ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গের পর একমাত্র কেরলই ছিল লালদুর্গ। তারও এবার পতন হল। যা জাতীয় স্তরে বামপন্থী রাজনীতিকে এক ধাক্কায় অনেকটাই দুর্বল করে দেবে। কেরলে বিজেপি যত ভালো ফলের আশা করেছিল, সেটি হয়নি। মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছে তারা। উলটে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দল দক্ষিণ ভারতে আবার একটি রাজ্য দখল করল। তেলেঙ্গানা, কর্ণাটকের পর এবার কেরল, তিন রাজ্যেই কংগ্রেস।
অসমে লাগাতার তিনবার জয় হল বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার আগ্রাসী প্রচারের ধারেকাছেই পৌঁছতে পারেনি বিরোধীরা। বস্তুত বিজেপির ‘ঘুসপেটিয়া’ রাজনীতি অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে সমানভাবে কাজ করেছে। হিন্দুত্ব রাজনীতির সুফল তারা পেয়েছে দুই রাজ্যেই। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে চারশো পার হওয়ার পরিবর্তে ২৪০ আসনে নেমে যাওয়ায় নরেন্দ্র মোদির আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানে বড়োসড়ো ধাক্কা লাগে। বিস্ময়করভাবে দেখা যায়, তারপর থেকে যত বিধানসভা ভোট হয়েছে, প্রতিটিতে আশ্চর্যজনক ভালো ফল করেছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি, বিহার দখল করার পর এবার বাংলা। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বিজেপির পরবর্তী টার্গেট পাঞ্জাব!