রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: চা বলয়ের জেলা আলিপুরদুয়ার বরাবরই বিজেপির দুর্জয় ঘাটি। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সবকটিতেই জিতেছিল গেরুয়া শিবির। এবারও জেলায় একুশের সেই পুনরাবৃত্তি ঘটল বিজেপির পক্ষে। এবার বিজেপি শুধু যে পাঁচটি আসনই ধরে রেখেছে তাই নয়, একুশের থেকে ভোট আরও বেড়েছে। স্বভাবতই গেরুয়া শিবিরে শুরু হয় উচ্ছ্বাস।
এদিন প্রথম রাউন্ড থেকেই পাঁচটি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা তৃণমূলের থেকে এগিয়ে যান। গণনা যত এগিয়েছে, জয়ের ব্যবধান বেড়েছে বিজেপি প্রার্থীদের। চার-পাঁচ রাউন্ডেই স্পষ্ট হয়ে যায় বিজেপি এবারও জেলার পাঁচটি আসন ধরে রাখছে।
বিজেপির এই ফল নিয়ে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন,রাজ্য সরকারের উন্নয়ন, বাংলার অস্মিতার প্রতি বিজেপির আঘাত ও চা বাগানে ব্যাপক উন্নয়ন সত্ত্বেও আমরা এই ফলাফল আশা করিনি। কেন এরকম ফল হল কাটাছেঁড়া করে দেখব।
অন্যদিকে, বিজেপি এমপি মনোজ টিগ্গা বলেন, আমরা নিশ্চিত ছিলাম একুশের ভোটের মতো এবারও জেলার পাঁচটি আসন ধরে রাখব। কিন্তু আসন ধরে রাখার পাশাপাশি এবার প্রতিটি আসনে যে আমাদের ভোট বাড়বে, এটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। আসলে তৃণমূলের দুর্নীতি, পরিযায়ী শ্রমিকরা ঢেলে ভোট দেওয়ার জন্য আমাদের ভোট বেড়েছে। আমাদের প্রার্থীদের জেতানোর জন্য জেলার মানুষকে অভিনন্দন জানাই।
এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত পাঁচটি বিধানসভার কোনোটিরই সম্পূর্ণ রাউন্ড শেষ হয়নি। কোনো কোনো বিধানসভায় তখনও এক বা দুই রাউন্ড বাকি ছিল। তবে তারমধ্যে জয়ের একটা পরিষ্কার চিত্র সামনে চলে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে বিজেপি প্রার্থী ৫২ হাজার ২৪১ ভোটে এগিয়ে যান। একুশে আলিপুরদুয়ারে বিজেপি জিতেছিলেন ১৬ হাজার ৭ ভোটে। মাদারিহাটে একুশে বিজেপি জিতেছিল ২৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে। পরে উপ নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল ২৮ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে। এবার মাদারিহাটে বিজেপি প্রার্থী সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪১ হাজার ভোটে এগিয়ে যান। ফালাকাটায় একুশে বিজেপি মাত্র ৩ হাজার ৯৯৯ ভোটে জিতেছিল। এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কালচিনিতে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতেছিল ২৮ হাজার ৭৭৬ ভোটে। এবার শেষ রাউন্ড গণনার আগেই বিজেপি কালচিনিতে ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে যায়। অন্যদিকে, কুমারগ্রামে গতবার বিজেপির জয়ের লিড ছিল ১১ হাজার ১ ভোটের। এবার কুমারগ্রামে গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিজেপি প্রার্থী ৪৮ হাজার ৬৭৬ ভোটে এগিয়ে যান। • মনোজ টিগ্গাকে গেরুয়া আবির মাখিয়ে দিচ্ছেন এক বিজেপি সমর্থক। - নিজস্ব চিত্র।