সন্দীপন দত্ত, মালদহ: সকাল থেকেই মালদহে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বিজেপি-তৃণমূল কংগ্রেসের। শেষমেশ লড়াই হল সেয়ানে সেয়ানে। বিজেপির ঝুলিতে দু’টি আসন বেড়ে হল ছয়। গত বিধানসভার থেকে দু’টি আসন কম পেয়ে তৃণমূলের বিধায়ক থাকছেন ছ’জন। একুশের মতোই ছাব্বিশেও মালদহের মাটিতে ঠাঁই পেল না বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস।
মালদহ জেলার ১২টি আসনের মধ্যে যে ছ’টিতে তৃণমূল জিতেছে , সেই আসনগুলি হল চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মোথাবাড়ি ও সুজাপুর। চাঁচল বিধানসভায় ৬৩ হাজার ৮৭৫ ভোটে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহিমান জিতেছেন ৪৮ হাজার ২৭১ ভোটে। মালতীপুরে এবার দুই হেভিওয়েটের লড়াই ছিল। যদিও শেষ হাসি হাসতে দেখা যায় তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সিকেই। তিনি ৫৯ হাজার ৭৪৭ ভোটে জিতেছেন।
এসআইআর পর্ব থেকেই খবরের শিরোনামে ছিল মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র। সকাল থেকে মোথাবাড়ির বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও দুপুরের পর বদলে যায় সমস্ত সমীকরণ। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ নজরুল ইসলাম ১০ হাজার ১১৮ ভোটে জয়ী হন।
নিজের জেতা আসন মোথাবাড়ি ছেড়ে এবার সুজাপুর কেন্দ্র থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েন তৃণমূলের সাবিনা ইয়াসমিন। সাবিনা ইয়াসমিনের জয়ের ব্যবধান ৬০ হাজার ২৮৭। রতুয়ায় তৃণমূল প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায় ৩২ হাজার ৫৬২ ভোটে জয়ী। টানা চারবার জিতে মোট ষষ্ঠ বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হতে চলেছেন অশীতিপর সমরবাবু।
একুশের বিধানসভায় চারটি আসন জিতেছিল বিজেপি। এবারে নিজেদের জেতা আসন সহ আরও দু’টি আসন বৈষ্ণবনগর ও মানিকচক বিধানসভায় এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। গাজোল বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী চিন্ময় দেব বর্মন ৩৮ হাজার ১৯২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। হবিবপুরের বিজেপি প্রার্থী জোয়েল মুর্মু ৭৮ হাজার ১৮৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। মানিকচকে গৌরচন্দ্র মণ্ডল ১৩ হাজার ৯৪৮ ভোটে জয়লাভ করেছেন। মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী গোপাল চন্দ্র সাহা ৫০ হাজার ১২৮ ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়েছেন। এই কেন্দ্রে এগিয়ে থেকেও শেষমেশ পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থী তথা মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ।