সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: কেন্দ্র বদলে ‘জন্মভূমি’। দীর্ঘ দেড় মাসের লড়াই। সঙ্গে ‘শিলিগুড়ি নিজের অভিভাবককেই চায়’ স্লোগান। তবুও ছবি বদলালো না। নিজের শহরেই হারলেন গৌতম দেব। বিপুল ভোটে প্রত্যাবর্তন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক শংকর ঘোষের। তাঁর জয়ের ব্যবধান একুশের নির্বাচনের দ্বিগুণ। একাদশ রাউন্ডের শেষে তাঁর লিড ৬৬ হাজার ৯০০ ভোট।
শিলিগুড়ি তো বটেই, উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতাদের মধ্যে গৌতম অন্যতম। ২০১১ সালে তৃণমূল ঝড়ে তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী হন। ২০১৬’র নির্বাচনে একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে পর্যটনমন্ত্রী হয়েছিলেন। একুশের নির্বাচনে পরাজিত হন। ২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মেয়র পদে আসীন হন।
এবার বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগে ডাবগ্রামে একটি সভায় গৌতম ঘোষণা করেছিলেন, জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির প্রার্থী হচ্ছি না। এরপর তাঁকে শহরের অভিভাবক হিসাবে ভোটের ময়দানে তুলে ধরে তৃণমূল। টানা দেড় মাস শহরের বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়ান। এত কিছুর পরও তাঁর ভাগ্য ফিরল না।
এদিন ভোটের ফল প্রকাশ হতেই ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ করেন গৌতম। বলেন, চারটি ব্যালট বাক্স খোলা ছিল। ব্যালট পেপারের সঙ্গে অ্যাকাউন্টের সিরিয়াল নম্বরের মিল ছিল না। ইভিএমেও কারচুপি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব।
তৃণমূল প্রার্থী যাই বলুন না কেন, শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে নাগরিকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলেন, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে হেরে যাওয়ার পর উনি এখানকার মেয়র হলেন। চার বছর অতিক্রম করলেও শহরের পানীয় জল, যানজট সমস্যা মেটাতে পারেননি। মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খুঁড়ে বেহাল করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেছেন, ফোনে অভাব-অভিযোগ শুনছেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যা সমাধানের হার নগন্য। এসবের প্রভাব ভোটে পড়েছে।
এদিকে, এই কেন্দ্রে ফের রেকর্ড ভোটে জিতেছেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক শংকর ঘোষ। এবার ভোট গণনার একাদশ রাউন্ড পর্যন্ত শংকরের লিড ৬৬ হাজার ৯০০। শংকর বলেন, এই জয় মানুষের জয়। তাঁরা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব।