• জেলায় ১৬-০ জয় বিজেপির, পদ্মময় পূর্ব মেদিনীপুর চারিদিকে গেরুয়া উল্লাস
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক:  পূর্ব মেদিনীপুরে গেরুয়া ঝড়ে ১৬-০ ব্যবধানে সাফ হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। সকাল থেকেই বিজেপি প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যায়। তারপর সময় যত গড়িয়েছে সেই ব্যবধান আরও বেড়েছে। বেলা গড়াতেই পদ্মময় হয়ে ওঠে গোটা জেলা। ১৬টি বিধানসভার মধ্যে সবকটি আসনেই জয়ী হল বিজেপি। মাথা নীচু করে গণনা কেন্দ্র ছাড়লেন তৃণমূল প্রার্থীরা। তমলুকে জেলাশাসকের অফিস কমপ্লেক্স চত্বরে বিশাল শামিয়ানা খাটিয়ে সেখানে এলইডি স্ক্রিন বসিয়ে ক্যাম্প অফিস খুলেছিল বিজেপি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে‌ই ক্যাম্পের ভিড় উপচে পড়ে। গেরুয়া আবিরে একে অপরকে রাঙিয়ে দেন কর্মীরা। সেই সঙ্গে মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্টো দিকে, সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাম্প দুপুর থে঩কেই ফাঁকা হতে শুরু করে। ময়নার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল কাউন্টিং হল ছাড়ার সময়, তাঁকে উদ্দেশ্য করে হাততালি দেন জয়ী বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্ডা। সেইসময় তৃণমূল কর্মীরা পাল্টা চোর চোর স্লোগানও দেন।

    পাঁশকুড়া পূর্ব (কোলাঘাট) থেকে রামনগর সর্বত্র গেরুয়া রঙে রাঙা হয়ে যায়। বিভিন্ন আসনে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিজেপি প্রার্থীরা লিড নিতে শুরু করেন। কয়েক রাউন্ড পরেই তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টরা বুঝতে পারেন, হাওয়া ভালো নয়। তবুও নেত্রীর নির্দেশে তাঁরা শেষপর্যন্ত কাউন্টিং হল আঁকড়ে ছিলেন। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় পূর্ব মেদিনীপুরে নির্বাচন হয়েছে। তারপর ১০ দিন কেটে গিয়েছে। অথচ, বিভিন্ন ইভিএমে ৯০-৯২ শতাংশ চার্জ কীভাবে থাকল, তা নিয়ে পরাজিত একাধিক তৃণমূল প্রার্থী প্রশ্ন তুলেছেন। হলদিয়ার তাপসী মণ্ডল, ময়নার চন্দন মণ্ডলদের বক্তব্য, ২৩ তারিখ ভোট হয়েছে। তারপর ১০ দিন কেটে গিয়েছে। এরপরও ইভিএম ৯০ শতাংশ চার্জ থাকে কী করে? এনিয়েই তৃণমূল প্রার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

    ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে এই জেলায় তমলুক ও কাঁথি দু’টি আসনই খুইয়েছে তৃণমূল। ১৬টির মধ্যে ১৫টি বিধানসভায় পিছিয়ে ছিল জোড়াফুল। কিন্তু, এবার বিধানসভা ভোটে তার চেয়েও বড় বিপর্যয় ঘটেছে। বাঘা বাঘা নেতারা বিরাট মার্জিনে পরাজিত হয়েছেন। চারবারের বিধায়ক অখিল গিরি থেকে তিনবারের বিধায়ক সুকুমার দে, জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা পটাশপুরের গত টার্মের বিধায়ক উত্তম বারিক সকলেই পদ্মঝড়ে কুপোকাত। পূর্ব মেদিনীপুরে এতটা বিপর্যয় হবে বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কল্পনাও করতে পারেননি। এদিনের ফল তাঁদের কাছে মস্তবড় ধাক্কা।

    তবে, লোকসভার মতোই এবার বিধানসভা ভোটেও এই জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ কালিদাসের মতোই নিজের দলের ক্ষতি করে দিয়েছেন বলে প্রার্থীদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন। ‘দিনে তৃণমূল, রাতে বিজেপি’, এই ধরনের নেতাদের সতর্ক করার পরও তাঁরা অন্তর্ঘাতের পথ থেকে সরে যাননি। তাঁদের ভূমিকা দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়কে আরও নিশ্চিত করে দিয়েছে।

    জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক কাউন্টিং হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, আমাদের প্রত্যেককে এই রেজাল্ট মাথা পেতে নিতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষ কেন আমাদের থেকে মুখ ফেরালেন তা নিয়ে নিশ্চয়ই রিভিউ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেবেন।

    পাঁশকুড়া পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী অসীম মাজি বলেন, আমাদের চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে। গণনা কেন্দ্রে আধা সেনাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার মাইক্রোফোনে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। চক্রান্তের কাছে হেরে গিয়েছি। 

    তমলুকের নিমতৌড়ীতে গণনা কেন্দ্রের সামনে বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস  সেলফি। নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)