• পদ্মেই আস্থা পূর্ব বর্ধমানের হার তৃণমূলের হেভিওয়েটদেরও
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভেঙে পড়ল পূর্ব বর্ধমানের সবুজ দুর্গ। ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। স্বপন দেবনাথ, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সিদিকুল্লা চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট নেতারা পরাজিত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন। তিনিও বিজেপির কলিতা মাঝির কাছে ১২হাজার ৫৩৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন। কেতুগ্রাম, ভাতার, রায়না, মঙ্গলকোটের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও গেরুয়া আবির উড়েছে। বর্ধমান উত্তর এবং খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়েছিল। বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্গণনা করা হয়। জামালপুর, মেমারি, গলসির মতো বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতেও তৃণমূল মুখ থুবড়ে পড়ে। অথচ লোকসভা নির্বাচনেও এই  বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূল এগিয়েছিল। এই ফলাফলে অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছেন।

    জেলার বাসিন্দারা বলেন, বর্ধমান দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রথম থেকেই ব্যাকফুটে ছিল। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার নতুন প্রার্থী করা হয়। দলের একাংশ নিষ্ক্রিয় ছিল। তাই এই বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে অনেকেই আশাবাদী ছিলেন না। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের জনপ্রতিনিধিদের উপর বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। কিন্তু পূর্বস্থলী দক্ষিণ, কাটোয়া, মঙ্গলকোট, জামালপুর বা মেমারির মতো বিধানসভা কেন্দ্রে হাতছাড়া হতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা ছিল না। মতুয়া ভোট বিজেপির দিকেই গিয়েছে। এছাড়া মহিলা ভোটারদের বড় অংশ গেরুয়া শিবিরকে সমর্থন করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও ফাটল ধরেছে। ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই ভোটের একটা অংশ তৃণমূলের দিকে আসেনি। এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শান্তুনু কোঁয়ার ৬৪২৭ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। জয়ী বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা বলেন, মানুষ তৃণমূলকে চাইছিল না। ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। 

    মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে বিদায়ী মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ১৪হাজার ৭৯৮ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ৩০হাজার ৪৭০ভোটে জয়ী হয়েছেন। পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস বলেন, মানুষের রায় মেনে নিতে হবে। মানুষ ওদের কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বুলডোজার এবং এনকাউন্টারের কথা বলে প্রথম থেকে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনিও এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। তিনি ১০হাজার ৪৯৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে অরুণ গোলদার জয়ী হয়েছেন। তিনি ১১হাজার ১৭৮ ভোটে জয় পেয়েছেন। কালনা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ মজুমদার ২৮হাজার ৬৩০ ভোটে জয়ী হয়েছেন। 

    খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীনচন্দ্র বাগ ৮২৮৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। রায়না বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ৮৩৪ ভোটে জয়ী হয়েছেন। মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ ৭১০৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন। কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ ৩৫হাজার ৬৬ ভোটে জয়ী হয়েছেন। পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ১৬হাজার ২৫৮ ভোটে জয়ী হয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন বিদায়ী মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তিনি বলেন, মানুষ ভোট দিয়েছে। মানুষের জন্য কাজও করেছি। তারপরও এই ফলাফলের পিছনে কী রহস্য বুঝতে পারছি না।  বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের পর বর্ধমান শহরে উল্লাস। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)