দিনভর বিজেপির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নানুরে শেষ পর্যন্ত জয়ী তৃণমূল, লাভপুরে জয়ী বিজেপির দেবাশিস
বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
সুকমল দালাল, বোলপুর: দিনভর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর অবশেষে শেষপর্বের গণনায় মোড় ঘুরল। বেশ কয়েক রাউন্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও নানুর বিধানসভা কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত জয় পেল তৃণমূল। লাভপুরে তৃণমূল-বিজেপির কড়া টক্কর হলেও অল্প ব্যবধানে জয়ী হল বিজেপি। জয়ের পর গেরুয়া আবির খেলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। পরাজয়ের পর নানুরের বিজেপি কর্মীরা কিছুটা হতাশ হলেও রাজ্যে জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন।
সোমবার বোলপুর কলেজে বোলপুর, নানুর ও লাভপুর এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা হয়। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরুর পর প্রথমদিকে নানুরের কসবা, সর্পলেহনা আলবাধা, সিঙ্গি, বাহিরী-পাঁচশোয়া ও সিয়ান -মুলুক অঞ্চলে বিজেপি ভালো ফল করেছিল। পঞ্চম থেকে দশম রাউন্ডের মধ্যে বিজেপি প্রার্থী খোকন দাস প্রায় দশ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়েছিলেন। তাঁর জয় অবধারিত বলে ভেবে ফেলেছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। এরপর থেকেই ধীরেধীরে ব্যবধান কমতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার মধ্যে শেষ রাউন্ডে ঘুরে দাঁড়ায় তৃণমূল। ৮১২২ ভোটে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বিধানচন্দ্র মাঝি। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, থুপসরা, ননগর কড্ডা ও চারকলগ্রাম অঞ্চলে ভালো লিড পাওয়ায় এই জয় সম্ভব হয়েছে। জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিধানচন্দ্র মাঝি।
লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু থেকেই তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ ওরফে রানা ও বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার মধ্যে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই শুরু হয় লিড বদলের খেলা। কখনও কয়েকশো, কখনও হাজারের ব্যবধানে এগতে থাকে দু’পক্ষই। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রাউন্ডে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে জয়লাভ করেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝা। জয়ের পর তিনি বলেন, এই জয় লাভপুরবাসীকে উৎসর্গ করছি। লড়াই কঠিন ছিল, তবে মানুষের আশীর্বাদে জিতেছি। শান্তিপূর্ণভাবে উন্নয়নের কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য। ভোটের দিন ঠিবা অঞ্চলে তাঁর উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া বার্তা দেন।
পরাজয় মেনে নিয়ে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ বলেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকেই। এত উন্নয়ন করার পরও প্রত্যাশিত ফল পেলাম না। কোথায় ঘাটতি হয়েছে তা বুথভিত্তিক বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। একইসঙ্গে ইন্দাস অঞ্চলে দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান তিনি।