পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে রোষনলে পুড়লেন মান্না দম্পতি, সিঙ্গুরে পরাজয় বেচারামের
বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দলকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করার খেসারত দিল তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলির সিঙ্গুর হেরে গেলেন তৃণমূলের বিধায়ক বেচারাম মান্না। রাত পর্যন্ত লড়াই করছেন তাঁর স্ত্রী তথা হরিপালের প্রার্থী করবী মান্না। ২০২১ সাল থেকেই স্বামী ও স্ত্রী, দু’জনকেই প্রার্থী করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বিপুল ক্ষোভ ছিল। এবারের নির্বাচনে দলের সেই ক্ষোভ আম জনতার ক্ষোভের সঙ্গে মিশে ধরাশায়ী করল তৃণমূলকে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, তৃণমূলের অহংকারের মাটি সিঙ্গুরেই কার্যত মাটিতে মিশে গেলেন বেচারাম মান্না। নবাগত বিজেপি প্রার্থী তথা চিকিৎসক অরূপকুমার দাস দাপুটে নেতা তথা রাজ্য সরকারের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে প্রায় ২০হাজার ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
যদিও গণনাপর্ব মিটে যাওয়ার পর বেচারাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে ভোট করিয়েছে। পরিকল্পনা করে সিঙ্গুর ও হরিপালে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। তারপরেও দলের ফলাফল অবশ্যই পর্যালোচনা করা হবে।’ এদিন সিঙ্গুরের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সিঙ্গুর ও হরিপালে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনরোষ কাজ করেছে। সরকার বদলে দেওয়ার যে স্লোগান আমরা তুলেছিলাম, তাতেও মানুষ বিশ্বাস করেছে। পাশাপাশি, আন্দোলনের ভূমি সিঙ্গুরে কৃষি ও শিল্প, দুটিই বেচারামবাবুরা উপেক্ষা করেছেন। এসব বিচার করেই মানুষ রায় দিয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেচারামবাবুর হারের খবর পৌঁছতেই সিঙ্গুরে বিজেপি জয়োল্লাস শুরু করে। তাতে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশকেও শামিল হতে দেখা গিয়েছে। জোড়া হার নিয়ে এদিন চাপা উল্লাস দেখা গিয়েছে তৃণমূল শিবিরেও। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ২০২১ সালেই দলের মধ্যেই মান্না-দম্পতির প্রার্থী হওয়া নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেবার একটি ভিন্ন লড়াইয়ের আবহে ক্ষোভের প্রভাব ইভিএমে পড়েনি। কিন্তু এবার বেচারামকে হারিয়ে দিয়েছে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমে থাকা জনরোষ। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী করবী মান্না রাত পর্যন্ত লড়াই করছেন। তৃণমূলের অন্দরে একাংশের দাবি, মান্না দম্পতির দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ব্যবহার, সিঙ্গুর ও হরিপাল নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও পরিবারতন্ত্রের দুর্গে ফাটল ধরিয়েছিল। হারের পিছনে সেসব অঙ্কও কাজ করেছে। তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতা বলেন, ‘গোষ্ঠী রাজনীতি এবং দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখল করার লোভ তৈরি হয়েছিল বেচাবাবুর (ওই নামেই নেতাকে ডাকতেন বেশিরভাগ কর্মী)। তাতে তিনি হাত ধরে দলের কর্মীদের একাংশকে বিজেপিমুখী করেছিলেন। বলা ভালো, ঘরের মধ্যেই বিরোধিতার বলয় তৈরি করেছিলেন। হিন্দু ভোটের একত্রীকরণের পর্বে সেই বিষয়টিও কাজ করেছে।’