নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকা চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে একাধিকবার প্রস্তাব গিয়েছে পুলিশ ডিরেক্টরেট থেকে। বারবার রিমাইন্ডার পাঠানোর পরেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তা আটকে গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই প্রস্তাবগুলির জন্য টাকা মিলবে নাকি তা বাতিল করে দেওয়া হবে তাই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে পুলিশ মহলে।
রাজ্য পুলিশের তরফে বিভিন্ন জেলায় ড্রোন, স্যাট ফোন, গাড়িসহ একাধিক জিনিস কিনতে চেয়ে বারবার প্রস্তাব গিয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে। এমনকি থানায় দৈনন্দিন ব্যবহার করা গাড়ির মেরামতি, টায়ার বদল, স্টেশনারি আইটেম কিনতেও টাকা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা পাওয়া তো দূর, উলটে ‘ফান্ড নেই’ বলে দিনের পর দিন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারই ফলে থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। কার্যত হতাশ হয়ে পড়েন পুলিশের বড়ো কর্তারাই। পুলিশ মহলের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার অন্যদিকে খরচ করতে পারলেও কেন পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকা দিচ্ছে না। এমনকি কেন্দ্র আধুনিকীকরণের টাকা দিলেও তার খরচের হিসেব মমতা সরকার না দেওয়ায় এই প্রকল্পে আসা টাকা বন্ধ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের যে ভাগ রয়েছে সেই টাকা তারা দেয়নি বলে বলে অভিযোগ। এই ভাগ চেয়ে পুলিশ ডিরেক্টরেটের তরফে বারবার প্রস্তাব গেলেও তা ফাইল বন্দি হয়েই পড়ে থেকেছে। এই কারণে মাঝপথেই মুখ থুবড়ে পড়েছে বহু প্রজেক্টই। শুধু তাই নয়, পুলিশ মহলের একটা বড়ো অংশের অভিযোগ, যে খাতের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেই খাতে খরচ না করে অন্য জায়গায় তা ব্যয় করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো সমস্ত থানায় ক্যামেরা বসানোর কাজ এখনো শেষ করে উঠতে পারেনি রাজ্য। এ নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। টাকা চেয়ে পাঠানো ফাইল বিভিন্ন অজুহাতে ফিরিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
পালাবদলের পর এই প্রকল্পগুলির গতি কী হবে, তাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে পুলিশমহলে। পুলিশের শীর্ষমহলের একাংশের ব্যাখ্যা কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের টাকা কীভাবে খরচ হবে, তা নিয়ে এবার অনুসন্ধান চলবে। এই প্রকল্পগুলিতে অর্থ সাহায্য আগামীদিনে মেলার ব্যাপারে আশাবাদী তাঁরা। কিন্তু যে সমস্ত খাতে রাজ্য টাকা দিয়ে থাকে সেই প্রকল্পগুলির কী হবে, তাই নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে পুলিশের অন্দরে। নতুন সরকার তাদের মতো করে প্রস্তাব নিয়ে আসবে, এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে আগের প্রজেক্টগুলিকে এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।