• আর জি করে নির্যাতিতার মায়ের পাশেই পানিহাটি
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোমবার সারা রাত দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। সাতসকালে দরজা খুলে ঢুকেছিলেন মেয়ের বন্ধ ঘরে। মেয়ের ছবিতে হাত ছোঁয়াতেই চোখ থেকে গড়িয়ে পড়েছিল জল। সেই জল মুছে বাড়ি থেকে গিয়েছিলেন পানিহাটি গুরুনানক ডেন্টাল কলেজের গণনাকেন্দ্রে। পরনে তেরঙা শাড়ি, বাঁ হাতে বাঁধা ছিল পুরীর মন্দিরের ধ্বজা। সকালে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে তিনি ঠায় বসেছিলেন গণনা ঘরের বাইরের বেঞ্চে। রাতে বেরলেন জয়ের শংসাপত্র নিয়ে। চোখে জল। বললেন, বাড়ি গিয়ে মেয়ের ছবিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদব। ও কখনও রাজনীতি পছন্দ করত না। কিন্তু আমি যে কীভাবে রাজনীতিতে চলে এলাম, আজও জানি না। স্ত্রীর কথা শেষ হতে না হতেই কেঁদে ফেললেন বিজেপি প্রার্থীর স্বামী শেখর দেবনাথও।

    আর জি কর হাসপাতালে নৃশংস অত্যাচারের পর খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার মা রত্না দেবনাথকে পানিহাটি থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। ভোট পর্বে হাজারো বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রত্নাদেবী। মুখম্যন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করার পাশাপাশি সিপিএমের প্রচার টোটোকে লক্ষ্য করে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু পানিহাটির মানুষ সেসব বিতর্ককে উড়িয়ে অভয়ার মা রত্না দেবনাথের পাশে থেকেছেন, এদিনের ফলাফল তার বড় প্রমাণ। ২৮ হাজারের বেশি ভোটে তিনি জয়লাভ করেছেন। এদিন সকাল থেকে গণনাকেন্দ্রে একটানা বসেছিলেন রত্নাদেবী। যত সময় গড়িয়েছে, তাঁর জয়ের ব্যবধান ততই বেড়েছে। একের পর এক রাউন্ড শেষ হচ্ছে, আর দলীয় কর্মীরা এসে বলছেন, কাকিমা আপনি জিতছেন। অভয়বাণী শুনে তাঁর মুখে স্মিত হাসি খেলেছে। কখনও স্বামীর হাত শক্তভাবে চেপে ধরেছেন। পরে জয়ী ঘোষণা হওয়ার পর বলেন, আজ আমি নয়, গোটা পানিহাটি জিতেছে। আমার মেয়েকে কেউ ভোলেনি। আজকের জয় তার বড়ো প্রমাণ। মেয়ের ন্যায়বিচারের লড়াই আরও তীব্র হবে। রত্নাদেবীর কথা যে সঠিক, তার বড়ো প্রমাণ বিজেপির প্রচার। ভোটপর্বে পানিহাটিতে শুধুমাত্র মেয়ের নৃশংস হত্যার বিচার চেয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন রত্নাদেবী। মানুষ এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে জড়িয়ে ধরে চোখের জল ফেলেছিলেন। তিনিও চোখের জলকে সাক্ষী রেখে সবাইকে পাশে থাকার আবেদন করেছিলেন। মানুষ যে আজও আর জি করের ঘটনাকে ভোলেনি, তার প্রমাণ পানিহাটির ফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন রত্নাদেবী বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করেছি, কোথাও কারও উপর যেন আক্রমণ করা না হয়। বিরোধীদের কেউ আক্রান্ত হলে আমি নিজে সেখানে যাব। যদিও পানিহাটিতে একের পর এক তৃণমূল কার্যালয় ও তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর।

    এদিন রত্নাদেবীর স্বামী শেখরবাবু বলেন, প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পানিহাটিকে ঘোষ পরিবারের হাত থেকে মুক্ত করব। আজ পানিহাটি হুমকির রাজনীতি থেকে মুক্তি পেল।
  • Link to this news (বর্তমান)