নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভবানীপুরে জয় অধরা রয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একই সঙ্গে ২৬-এর মহারণে পরাজয় শিকার করতে হল তাঁর মন্ত্রিসভার দু’ডজন সতীর্থকে। গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল মমতার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন দুজনেই। তবে শুধু শিক্ষা নয়। অর্থ, বিদ্যুৎ, সেচ, পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন সহ একাধিক দপ্তরের মন্ত্রীদের হারতে হয়েছে তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীদের কাছে। মমতা সহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে এই তালিকায় রয়েছেন ২২ জন।
মমতার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক, উদয়ন গুহ, বিরবাহা হাঁসদা, ইন্দ্রনীল সেন, বেচারাম মান্না, প্রদীপ মজুমদার, সুজিত বসু, বঙ্কিম হাজরা। যাঁদের মধ্যে অনেকেই ২০১১ সাল থেকে ছিলেন মমতার মন্ত্রিসভায়। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়েও জয় ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। সিদ্দিকুল চৌধুরী, উজ্জ্বল বিশ্বাস, মানুষ ভুঁইয়া এবং সব সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ইন্দ্রনীল সেনও হেরে গিয়েছেন। এমনকি হারতে হয়েছে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বর্ষীয়ান বঙ্কিম হাজরাকেও।
সোমবার নির্বাচনের ফল ঘোষণায় ধরাশায়ী ঘাসফুল শিবির। উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চল তো বটেই দক্ষিণবঙ্গেও নিজেদের আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল। যার কোপ পড়েছে হেভিওয়েট মন্ত্রীদের উপর। ফিরহাদ হাকিম, পুলক রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিনের মতো কয়েকজন মন্ত্রী বিধানসভা নির্বাচনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সফল হয়েছেন। পরাজিত হয়েছেন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ সাল থেকে রামপুরহাট কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি।