• ভবানীপুরে ইন্দ্রপতন! পরাজিত মমতা, জয়ী শুভেন্দু
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘খেলা’ ঘুরল রাত ৮টা ১০ মিনিটে! ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনে ফেলে ৫৬৩ ভোটে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকে এই ব্যবধান ক্রমশ বেড়েছে। ২০ রাউন্ড গণনা শেষে শুভেন্দু জিতলেন ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে। তিনি পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৬৩ ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৩৪৯ ভোট। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ভোট ধরে ভবানীপুর কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার ঘোষণা করলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী জয়ী ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে’। জয়ের শংসাপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসার পর শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তন হবে বলেছিলাম। সেটাই হয়েছে। বাংলার মানুষ ঢেলে ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। এটা হিন্দুদের জয়।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ে ভবানীপুরে আক্ষরিক অর্থেই ইন্দ্রপতন ঘটল। যদিও দীর্ঘ চার ঘণ্টা গণনাকেন্দ্রে থাকার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ বেরিয়ে এসে মমতা অভিযোগ করেন, ‘আমাকে মারা হয়েছে। আমাদের বার করে দিয়ে কাউন্টিং করানো হচ্ছে। কাউন্টিং হলের ভিতরে বিজেপি দখল নিয়ে নিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমাদের জোর করে হারিয়ে দিয়েছে। বিজেপি দানবিক পার্টি। ওরা ১০০টা আসন লুট করেছে। আবার আমরা ক্ষমতায় ফিরে আসবই।’

    সোমবার গণনা শুরুর সময় থেকেই তুমুল উত্তেজনা ছিল ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে। বিভিন্ন সময় নানা কারণে সেই উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। কখনো তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টের গণনাকেন্দ্র থেকে মেরে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, কখনো আবার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণনাকেন্দ্রে ছুটে আসা—সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এভাবেই বারবার শিরোনামে এসেছে ভবানীপুর। এদিন সকাল ৮টায় শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা শুরু হয়। সকাল ৯’টা ৫৯ মিনিটে প্রথম রাউন্ড গণনা শেষে ঘোষণা করা হয় ১৯৯৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মমতা। এরপর বেশ কিছুক্ষণ এগিয়ে থাকার ‘ট্রেন্ড’ ধরে রাখে তৃণমূল। বেলা ১২টা ১ মিনিটে পঞ্চম রাউন্ড গণনার ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। দেখা যায়, মমতা পেয়েছেন ২৫ হাজার ৯৪২ ভোট। বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৯২৩৬। অর্থাৎ, ১৬ হাজার ৭০৬ ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে যান তৃণমূল নেত্রী। ষষ্ঠ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা এগিয়ে ছিলেন ১৯ হাজার ৩৯৩ ভোটে। সেই সময় রাজ্যজুড়ে বিজেপির পালে হাওয়া ক্রমশ প্রবল হতে থাকে। ১২টা ৩৫ মিনিটে ভিডিও বার্তা দিয়ে কর্মীদের মমতা বলেন, ‘কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যাবেন না। ধৈর্য ধরুন। অপেক্ষা করুন।’

    ভবানীপুরের গণনায় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে সপ্তম রাউন্ড। মমতার এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে হয় ১৭ হাজার ৩৭১ ভোট। এরপর থেকে গণনা যত এগিয়েছে, বিজেপি প্রার্থীর বাক্সে ভোট ততই বেড়েছে। 

    এসবের মধ্যেই খবর আসে, গণনাকেন্দ্রের ভিতরে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের উপর চড়াও হয়েছে বিজেপির লোকজন। হুমকি এবং মারধর চলছে বলে অভিযোগ ওঠে। তখন সেখানেই ছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্ট বাবলু সিংকে মেরে বার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার খবর পেয়ে ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ গণনাকেন্দ্রে চলে আসেন মমতা নিজেই। এরপর বেশ কিছু সময় গণনা প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল বলে জানায় কমিশন। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে কমিশনের ওয়েবসাইটে ভবানীপুরের যে ফল দেখানো হয়, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৩৪৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

    ফের দীর্ঘ সময় গণনা বন্ধ থাকার পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ নাগাদ ১৪তম রাউন্ডের গণনা কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। তাতেও মমতা এগিয়েছিলেন ৩৮৩০ ভোটে। ১৫ রাউন্ডের পর মমতা এগিয়েছিলেন ২ হাজার ৯২৯ ভোটে। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি বিজেপিকে। রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ে শামিল হয় ভবানীপুরও। 
  • Link to this news (বর্তমান)