নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাশীপুর‑বেলগাছিয়া, মানিকতলা, শ্যামপুকুর– সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের আরও অনেক কেন্দ্রের মতো এই তিনটি বিধানসভা এলাকা থেকেও বিজেপির জয়ের খবর আসতে শুরু করে। ফলে কেন্দ্র তিনটির সামগ্রিক ছবিও বদলে যেতে থাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই তিন কেন্দ্রের বিভিন্ন অলিগলিতে বিজেপির ঢাউস ঢাউস পতাকা টাঙাতে শুরু করে দেন অনুগামী‑সমর্থকরা। চারদিকে ছেয়ে যায় নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বড় বড় কাটআউটে। বস্তা থেকে গেরুয়া আবির নিয়ে রাজপথে ছুড়তে দেখা যায় কিছু যুবককে। বাজছিল ডিজে। বিলি করা হচ্ছিল লাড্ডু। মোটর সাইকেল, ম্যাটাডোর, ছোট হাতি সহ বিভিন্ন যানবাহনে শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী‑সমর্থককে দলীয় পতাকা উড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে যেতে দেখা যায়। রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে ডিজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকেন বিজেপির পুরুষ-মহিলা কর্মীরা। একে অপরকে মাখিয়ে দেন গেরুয়া আবির।
বিভিন্ন স্ট্যান্ডে থাকা অটো থেকে তৃণমূলের পতাকা নামিয়ে সেখানে উড়িয়ে দেওয়া হয় পদ্ম-পতাকা। অন্যান্য যানবাহনেও সমর্থকরা বিজেপির পতাকা লটকে দেন। গোটা রাজ্যের মতো এদিন উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকাতেও সকাল থেকে চর্চা ছিল ভোটের ফলাফল নিয়ে। চায়ের দোকানগুলিতে ছিল ভিড়। সকলের একটাই প্রশ্ন, কত সিট পেল বিজেপি? কারও চোখ ছিল মোবাইলে। কেউ দেখছিলেন টিভিতে বিভিন্ন খবরের চ্যানেল। বিভিন্ন বাড়ি থেকে ক্রমাগত ভেসে আসছিল ভোটের ফলাফলের খবর।
অন্যদিকে, এই তিন কেন্দ্রে তৃণমূলের দলীয় অফিসগুলি ছিল একেবারে শুনশান। সকালের দিকেও সেখানে কর্মী‑সমর্থকদের ভিড় থিকথিক করছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই তা ফাঁকা হয়ে যায়। যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, তৃণমূলের দলীয় পতাকা, ফেস্টুন, পোস্টার নামিয়ে সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজেপির পতাকা।
এদিন সকাল থেকেই রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। মাঝেমধ্যে দু’একটি বাসের দেখা মিলছিল। তবে অন্যদিনের তুলনায় সরকারি বাসের সংখ্যা ছিল বেশি। সব মিলিয়ে গেরুয়া ঝড়ে তৃণমূলের এই তিনটি গড় এদিন তছনছ হয়ে যায়। ঘাসফুলের পরিবর্তে ফুটে ওঠে পদ্ম।