নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির শিল্প থেকে কৃষিবলয়, কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেল ঘাসফুল। এক কথায় বিপুল জয় পেল গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের গড় রক্ষা করলেন দুই নারী— ধনেখালির অসীমা পাত্র, চণ্ডীতলার স্বাতী খন্দকার। একদা তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার অন্যতম ভূমি সিঙ্গুর থেকে বিরাট ব্যবধানে হেরেছেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়া, শিল্পবলয়ের শ্রীরামপুরে হারের মুখ দেখতে হয়েছে সবুজ শিবিরকে। জগদ্ধাত্রী ভূমে বিরাট ব্যবধানে হার হতে পারে রাজ্যের আরেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তৃণমূলের নতুন প্রার্থীদের প্রায় কেউই জিতে আসতে পারেননি। অন্যদিকে, পুরানো দাপুটে নেতা-মন্ত্রীদেরও হারের মুখ দেখতে হয়েছে। চুম্বকে এটাই ২০২৬ সালের হুগলি জেলার সার্বিক ভোট পরিণামের চিত্র। হুগলিতে ঘাসফুলের উল্লেখযোগ্য জয় বলতে দুই নারী। ধনেখালিতে দলের মাটি কোনোমতে ধরে রেখেছেন পুরাতন নেত্রী অসীমা পাত্র। তিনি প্রায় ১৩ হাজার ভোটে জিতেছেন। পাশাপাশি, ঘাসফুলের আরেক শক্তমাটি চণ্ডীতলাতে জয় পেয়েছেন স্বাতী খন্দকার। তিনি প্রায় ১৯ হাজার ভোটে জিতেছেন। বাকি তারকেশ্বর, সিঙ্গুর, চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম, বলাগড়, শ্রীরামপুরে রাত পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরকে ধরাশায়ী করেছে বিজেপি। দলের কার্যত সাধারণ কর্মী, জেলা রাজনীতির অপরিচিত মুখ দিয়ে তৃণমূল শিবিরের একের পর এক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছে পদ্মপার্টি। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরপাড়া থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৪টি আসনে কার্যত গেরুয়া টর্নেডো বয়ে গিয়েছে। ২০২১ সালে প্রবল চাপের লড়াইতেও ওই ১৪টি আসনের সবগুলি বিরাট ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল তৃণমূল। রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বলাগড়, সপ্তগ্রাম, পাণ্ডুয়া, চুঁচুড়াতে বিজেপি প্রার্থীদের জয় ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বাকি আসনগুলিতে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
বিপুল বিপর্যয়ের পরে হুগলি জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, সন্দেহ নেই যে ফল হয়েছে তা প্রত্যাশিত ছিল না। তবে আমরা জেলাস্তরে দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। দলের অন্দরে পরাজয়ের কারণ পর্যালোচনা করা হবে। সিপিএম জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষও বলেন, আমরা দলের ফলাফল পর্যালোচনা করব। রাজনৈতিক মহল অবশ্য বলছে, বামেরা তাদের শেষ রক্তবিন্দুটুকুও এই নির্বাচনে বিজেপি’কে দান করে দিয়েছেন। গোটা জেলার কোথাও বাম প্রার্থীরা সামান্য প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। বিরল ব্যতিক্রম রাজ্যনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। যিনি উত্তরপাড়ায় তৃতীয় হলেও প্রায় ৪০ হাজার ভোট পেয়েছেন। হুগলির নির্বাচনি ফলাফলে উচ্ছ্বসিত বিজেপির রাজ্য নেতা দীপাঞ্জন গুহ। তিনি নিজে চন্দননগর থেকে হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন ইন্দ্রনীল সেনের থেকে বড়ো ব্যবধানে রাত পর্যন্ত এগিয়ে। তিনি বলেন, দল-মত-বর্ণ নির্বিশেষে হুগলির মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই নির্বাচনের এটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। এবার নতুন হুগলি এবং নতুন বাংলা গড়ার কাজে দ্রুত নামতে হবে। নিজস্ব চিত্র