হাওড়া ও বালিতে পুর ভোট না করার খেসারত দিতে হল তৃণমূলকে?
বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল পুর পরিষেবা নিয়ে নাগরিক অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হয়েছে। কোথাও নিকাশির দুরবস্থা, কোথাও ভ্যাট উপচে পড়া আবর্জনা, আবার কোথাও রাস্তার ভগ্নদশা— গত প্রায় আট বছর ধরে এই চিত্রই নিত্যসঙ্গী শহরবাসীর। পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসকের মাধ্যমে পরিষেবা চালানোর চেষ্টা চালানো হলেও তাতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে পুরসভা নির্বাচন না হওয়াই কি শাসকদলের জন্য বড়ো রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াল? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে অলিগলি, চায়ের আড্ডায়।
বিশেষ করে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে গত কয়েক বছরে পুর পরিষেবার অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ। প্রচারে গিয়ে শাসকদলের প্রার্থীকে বারবার শুনতে হয়েছে জঞ্জাল অপসারণ, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তার আলো সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ। এমনকি, রাজ্য সরকারের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। একই চিত্র দেখা গিয়েছে বালিতেও। ফলস্বরূপ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে, পদ্ম ফুটেছে। তারপর থেকেই এলাকায় এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পুরসভা নির্বাচন না হওয়ার প্রসঙ্গ। শিবপুরের কোনা এলাকার বাসিন্দা শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘নিয়মিত পুর পরিষেবা থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম পরিষেবার জন্য অপেক্ষা করেছে, তারই প্রতিফলন ভোটে দেখা গিয়েছে।’ উত্তর হাওড়ার নন্দীবাগানে চায়ের দোকানেও একই সুর শোনা গেল। স্থানীয় বাসিন্দা দীপেশ শর্মা, নন্দ বিশ্বাস ও রমেশ সিংদের বক্তব্য, ‘আবর্জনার সমস্যায় শহরের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। নির্বাচিত বোর্ড থাকলে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।’
তবে লিলুয়ার কিছু এলাকায় ভিন্ন মত উঠে এসেছে। সূর্যনগরের বাসিন্দা শেফালি সরকার ও রঞ্জিতা বিশ্বাস বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে প্রার্থী কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন, রাস্তা ও নিকাশির উন্নতির চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তাতে আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি।’ সব মিলিয়ে স্পষ্ট, হাওড়া ও বালির বাসিন্দাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড়ো দাবি— দ্রুত পুরসভা নির্বাচন এবং স্থায়ী নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করা।