• গণনার মধ্যেই জেলায় জেলায় শুরু সংঘর্ষ, পার্টি অফিস দখল, জখম বহু তৃণমূল নেতা কর্মী, রক্তাক্ত প্রার্থীরাও
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণনাপর্ব মধ্যপথে পৌঁছানো মাত্রই বাংলার ঘাসফুলের বন উপড়ে পদ্মচাষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। আর সেই পর্বেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক হিংসা ও গোলমালের ঘটনা। গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা তো ঘটেছেই, পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাড়ায়-মহল্লায় শুরু হয়ে যায় পার্টি অফিস দখল, আর পতাকা বদলের প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া যে মোটেই ‘শান্তিপূর্ণ’ পথে হয়নি, তা বলাই বাহুল্য। কোথাও সংঘর্ষ, আবার কোথাও একতরফা আক্রমণে জখম হয়েছেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। অভিযোগ, এই আবর্তে রেহাই পাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভবানীপুরে শাখওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছে বলে মমতার অভিযোগ। বারাকপুরে এদিন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দুই তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী ও তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ। সুবোধবাবুর মুখ ফেটে যায়। বারাকপুরের বিজেপি নেতা তথা নোয়াপাড়া কেন্দ্রে বিজয়ী অর্জুন সিংয়ের দাবি, দলীয় কোন্দলে প্রহৃত হয়েছেন তাঁরা। 

    ভোটগণনা চলাকালীনই কর্মী-সমর্থকদের শান্ত-সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তাঁদের সেই আবেদন যে কাজে আসেনি, তার প্রমাণ মেলে গণনাপর্বেই। প্রথম গোলমালের খবর আসে আসানসোল থেকে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকা তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাঙ্গামায় রক্তাক্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দুই তৃণমূল কর্মীর পা ভাঙে। আক্রান্ত হয়েছেন এক মহিলা পুলিশকর্মীও। এর কিছুক্ষণ পরেই জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায় তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বারাবনির পানুরিয়ায় তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে আগুন ধরানো হয় আগুন। মেদিনীপুর শহরে নান্নুর চক এলাকায় তৃণমূলের জেলা অফিসে তালা লাগিয়ে দেয় বিজেপি। হটস্পট নন্দীগ্রাম থেকেও গোলমালের খবর এসেছে। নন্দীগ্রাম-১ নম্বর ব্লকের সোনাচূড়া অঞ্চল তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কাঁথির কাখুরিয়া এলাকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, রঘুনাথগঞ্জ, নবদ্বীপ সহ আরও কয়েকটি এলাকা থেকে। বীরভূমের সদাইপুর, কীর্ণাহার, দুবরাজপুরের লোবায় তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ও দোকানপাটে আক্রমণ হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের ইটাহারে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী মোশারফ হোসেনের গাড়িতেও হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। হিংসার এই আগুনের আঁচ এসে পৌঁছায় খাস কলকাতাতেও। সন্ধ্যায় ই এম বাইপাসের রুবির মোড়ে বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত (স্বরূপ) ঘোষের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগানো হয়। সুশান্তর অভিযোগ, প্রায় ৭০ জন কর্মীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)