সংবাদদাতা, বজবজ: পদ্ম ঝড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে জোড়াফুল উড়ে গেলেও তাদের সম্মান রাখল মহেশতলা ও বজবজ। দুটি কেন্দ্রে গেরুয়া ঝড় রুখে দিলেন বজবজে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ প্রার্থী অশোক দেব এবং মহেশতলায় তাদের প্রার্থী শুভাশিস দাস। সোমবার রাত পর্যন্ত আলিপুরের মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গালর্স হাইস্কুলের গণনা কেন্দ্র থেকে যে ফল প্রকাশ হয়েছে, তাতে বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ডাঃ তরুণ আদকের থেকে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন অশোক দেব। ফলে এই কেন্দ্র থেকে টানা সাতবার দাঁড়িয়ে জয়ের রেকর্ড করলেন অশোকবাবু। তিনি বলেন, মানুষের আশীর্বাদেই এমন হল। তবে জিতলেও দলের এই বিপর্যয়ের জন্য তাঁর মন খারাপ। গণনা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এমন হবে আশা করিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত কাজ করলেন, তারপর জনতা এই রায় দিল কেন, বুঝতে পারছি না। এবার কি করবেন? অশোকবাবু বলেন, মানুষের রায় মানতেই হবে। নতুন করে দলের সকলকে নিয়ে এককাট্টা হব।
অন্যদিকে, মহেশতলা কেন্দ্র থেকে প্রথম দাঁড়িয়েই তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাস ৩৩ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেন। তাঁর কাছে হেরে গেলেন বিজেপির তমোনাথ ভৌমিক। তবে উভয়ের ভিতর রীতিমতো টক্কর হয়েছে। ফলে মার্জিন বাড়াতে পারেননি। তাঁর কথায় অধিকাংশ হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোট পাইনি। অনেকটাই চলে গিয়েছে পদ্মফুলে। তবে সংখ্যালঘু ভোট পুরোটা পাওয়ার কারণে জয় পেয়েছি।
বিজেপির তমোনাথ ভৌমিক অবশ্য বলেন, উনি সঠিক বলেননি। হিন্দু ভোট ভাগ হয়েছে। এর একটা অংশ সিপিএম ও তৃণমূল পেয়েছে। বাকি হিন্দুভোট পেলেও সবটা আসেনি। তাই হারতে হল। তবে গোটা রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের তাণ্ডবে তিনি খুশি। বললেন, এ জয় বন্দেমাতরম-এর। এ জয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।
এদিকে, বজবজের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ তপন আদক হেরে যাচ্ছেন বুঝতে পেরে ফল ঘোষণার আগেই জয় শ্রীরাম স্লোগান দিতে দিতে দলবল নিয়ে বের হয়ে যান। যদিও তিনি খুশি দলের সার্বিক জয়ে। তিনি বলেন, এতদিন পর ভালমতো ঘুমোতে পারব। কারণ চারপাশে পদ্মফুলের ছড়াছড়ি। তবে আমরা তৃণমূলের মতো বদলা নেওয়ার পক্ষে নেই। বদল ও শান্তি চাই। তাই কেউ দুর্ব্যবহার করলে আইনি শাস্তির দিকে আমাদের যেতে হবে।