সাতগাছিয়ার কাউন্টিং হলে ‘চোর চোর’ স্লোগান শুনলেন অভিষেক
বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বজবজ: সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল নয়, শেষ হাসি হাসল বিজেপি। গণনা কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থী সোমশ্রী বেতালের চেয়ে ১৭০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপির অগ্নিশ্বর নস্কর। কার্যত তিনি জয়ী বলেই দাবি করেছেন পদ্মপ্রার্থী। তবে এই কেন্দ্রে জোড়াফুল প্রার্থী এদিন সকাল থেকেই এগিয়ে ছিলেন। দশ রাউন্ড পর্যন্ত গণনাতে সোমশ্রী এগিয়ে ছিলেন। তবে সব সময়েই ব্যবধান ছিল কম। এর মাঝে এদিন বিকালে আচমকা গণনাতে দেখা যায়, অগ্নিশ্বর নস্কর এগিয়ে। অভিযোগ, তখন কাউন্টিং হলের ভিতর বিজেপি প্রার্থী ও তাঁর অনুগতরা তৃণমূল প্রার্থীকে বলেন, এবার আপনাদের আর থাকতে হবে না। কারণ ২০২১ সালে আমাদের এইভাবে জোর করে এই কাউন্টিং হল থেকে মারধর করে তৃণমূল বের করে দিয়েছিল।
এ নিয়ে উত্তপ্ত হয় পরিবেশ। শেষে তৃণমূল প্রার্থী বেরিয়ে আসেন। যদিও পরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা ফের তৃণমূল ও তাদের কাউন্টিং এজেন্টদের হলে ঢুকিয়ে দেন। এদিকে এই খবর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে গেলে তিনি ছুটে আসেন আলিপুরের মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গালর্স হাইস্কুলের সাতগাছিয়ার কাউন্টিং হলে। তিনি নিরাপত্তার বেষ্টনি দিয়ে কাউন্টিং হলের দিকে চলে যান। এদিকে কাউন্টিং হলের ভিতর বিজেপির এজেন্টরা এই খবর পেয়ে তেড়ে আসেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এলাকার ভিতর ঢোকার অনুমতি না থাকলেও, কী করে ঢুকলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এনিয়ে ইলেকশন কমিশনে নালিশ জানানো হয়। তখন কমিশনের নির্দেশে অভিষেককে বের করে দেওয়ার নির্দেশ এলে পুলিসের আধিকারিকরা ভিতরে ঢুকে অভিষেককে আটকে দেন। তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
এর মধ্যে বিজেপির এজেন্টরা বেরিয়ে আসেন। অভিষেককে উদ্দেশ্য করে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। গোলমাল হতে পারে এই আশঙ্কায় অভিষেককে পুলিস গেটের বাইরে নিয়ে আসে। অভিষেক অস্বস্তিতে পড়েন। ইতিমধ্যেই লোহার দরজা আটকে দেয় পুলিস। কিন্তু বিজেপির লোকজন গেটের সামনে এসে তাঁকে লাগাতার চোর বলে গালিগালাজ করেন। তখন সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁকে চোর বলা হচ্ছে? অভিষেক বলেন, আপনারা শুনছেন তো। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। এক সাংবাদিক বলেন, আপনি বলেছিলেন ৪ মে ফল বেরলে ডিজে বাজাবেন। এখন কি বলবেন? অভিষেক কোনও উত্তর দিতে পারেননি। কেন তৃণমূলের এই হার হল? এই প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেননি তিনি। কোনওরকমে আমতা আমতা করে বেরিয়ে যান। তখনও তাঁকে শুনতে হয় বিজেপির লোকজনের চোর চোর স্লোগান।
তবে কেন অভিষেক এই পরিস্থিতিতে হুট করে গণনা কেন্দ্রের ভিতর আসতে গেলেন, তা পুলিস আধিকারিকদের বোধগম্য হচ্ছিল না। অনেকে বলছেন, এইভাবে না এলে এতটা অপদস্থ ও অসম্মানিত হতে হতো না। বিজেপির অনেকে বলেছেন, দাদাগিরি করতে এসেছিলেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর আগে অভিষেক অশ্রাব্য ভাষায় অসম্মান করেছেন। ইট ছুড়লে পাটকেল খেতে হয়। সেটা এদিন বুঝিয়ে দেওয়া হল। নিজস্ব চিত্র