• ভরাডুবি মন্ত্রী সুজিতের, বড় ব্যবধানে হার অদিতিরও
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পরপর চারবারের বিধায়ক। রাজ্যের মন্ত্রীও। কিন্তু গেরুয়া ঝড়ে এবার বিধাননগর কেন্দ্রে ভরাডুবি সুজিত বসুর। তিনি পরাজিত হলেন ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে। তাঁর কেন্দ্রে জয়ের হাসি হাসলেন বিজেপির ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এর সঙ্গে এবার বড়ো ব্যবধানে পরাজিত হলেন রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি। রাজ্যজুড়ে চলা গেরুয়া ঝড়ে সল্টলেক থেকে রাজারহাট, লেকটাউন থেকে নিউটাউন, সর্বত্রই গেরুয়া আবিরের অকাল হোলি। কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে রাস্তার কালো পিচ ঢেকে যায় গেরুয়া আবিরের পুরু আস্তরণে।

    সল্টলেকের বিধাননগর কলেজ। একপাশে ঘাসফুলের সমর্থকরা, অন্যপাশে পদ্ম। দু’পাশে দুই প্রতিপক্ষ দলের ক্যাম্প। মাঝখানে কড়া প্রহরা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর। সঙ্গে পুলিশ। শুরুর দিকে দুই শিবিরেই ছিল উচ্ছ্বাস। কিন্তু বেলা বাড়তেই ফিকে হয় সবুজ শিবির। ট্রেন্ড দেখে উচ্ছ্বাস, উন্মাদনায় ফেটে পড়তে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। দফায় দফায় দুই দলের সমর্থকরা মুখোমুখি হন। ফলে উত্তেজনাও ছড়ায়। সুজিত বসু গণনাকেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু ১০ হাজারে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান।

    ২০১৯ সালের লোকসভার ফলাফলে বিধাননগর কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৯১৬ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুজিত বসু ৭ হাজার ৯৯৭ ভোটে জেতেন। ২০২৪ সালের লোকসভায় তৃণমূল এখানে ১১ হাজার ১৫৬ ভোটে ছিল পিছিয়ে। তবে এবার ‌জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল তৃণমূল শিবির। কিন্ত তা যে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হবে, তা টের পাননি তৃণমূলের তাবড় নেতারাও। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর থেকে অদিতি মুন্সি ২৫ হাজার ২৯৬ ভোটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। তবে গত লোকসভায় এই কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড এসে দাঁড়ায় মাত্র ৭৪ ভোটে। সেই ফলাফলই হারের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিল তখন। তাঁর কেন্দ্রে এবার মমতা-অভিষেক জোড়া সভা করে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত প্রায় ২৭ হাজারেরও বেশি ব্যবধানে পরাজিত হলেন অদিতি।

    ২০২১ সালে রাজারহাট-নিউটাউন থেকে ৫৬ হাজার ৪৩২ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়। এবার গণনার দিন রাত আটটা পর্যন্ত ১১ রাউন্ড শেষে তিনি ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। শেষে সামান্য ভোটে পরাজিত হন তিনি। যদিও জিম্বোকে জোর করে হারানোর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তবে রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কাউন্টিং এজেন্টদের গণনাকেন্দ্র ছাড়ার হিড়িক পড়তে দেখা যায়। উল্টোদিকে বিকেলের দিকে হাসিমুখে গণনাকেন্দ্র থেকে বের হন বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ততক্ষণে তিনি ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন। চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। গালে গেরুয়া আবির। তিনি বলেন, ‘আমরা বিধাননগর সহ রাজ্যে ১৮০টি আসন পাব আশা করেছিলাম। তবে মানুষ দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা আরও বেশি সমর্থন করেছেন। তাই এই জয় মানুষের।’

     ফল ঘোষণার পর বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু ও বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। -নিজস্ব চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)