নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতা এবং সংলগ্ন অঞ্চলে দুর্গ আগলে রাখলেন তৃণমূলের দুই প্রার্থী। বন্দর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম এবং মেটিয়াবুরুজ কেন্দ্রের প্রার্থী আব্দুল খালেক মোল্লা জিতলেন। দু’জনেই এই নিয়ে চতুর্থবার জিতলেন বিধানসভায়।
সোমবার সকাল থেকে বন্দর কেন্দ্রের কাউন্টিং স্টেশন বা গণনাকেন্দ্রে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। বন্দরের গণনাকেন্দ্র সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুলে যাওয়ার রাস্তার একদিকে একবালপুর মোড় অন্যদিকে খিদিরপুর মোড় ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মোতায়েন ছিল পুলিশ এবং আধা সামরিক জওয়ানের বিশাল বাহিনী। নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র দেখানোর পর গণনাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি পেয়েছে সবাই। গণনা শুরুর পর প্রথম থেকেই এগিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম।
প্রথমদিকে বন্দর কেন্দ্রের ফলাফল জানা যাচ্ছিল না। গণনা শুরু হলেও কোন প্রার্থী এগিয়ে বা পিছিয়ে বা কে কত ভোট পাচ্ছেন তা সামনে আসছিল না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে চলে আসেন ফিরহাদ হাকিম। কাউন্টিং টেবিলে চলে যান। অন্যদিকে সকাল থেকেই একাধিকবার গণনাকেন্দ্রে এসে ফলাফলের খোঁজ নেন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং। ব্যালট এবং প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে ফিরহাদ পান ১০ হাজার ১৫৬ ভোট। বিজেপির রাকেশ পান ২২২ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী প্রথম রাউন্ডেই এগিয়ে যান ৯ হাজার ৯৩৪ ভোটে। দিনের শেষে ফিরহাদ প্রায় ৫৫ হাজার ভোটে বন্দর কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাকেশ সিং। যদিও সকাল থেকেই ফিরহাদের চোখমুখে উদ্বেগ ফুটে উঠছিল। টিভির পর্দায় ভোটের ফলাফল দেখে স্বাভাবিকভাবেই বিমর্ষ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এই সৈনিক। ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমি এখানকার বিধায়ক। রোজ সকালে কয়েক ঘণ্টা আমি কাউন্সিলার এবং বিধায়ক হিসাবে কাজ করি। কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা কিংবা অন্য কোনো সমস্যা বা দাবি নিয়ে যেই আসুক না কেন তাঁদের পরিষেবা দিয়ে থাকি। তারপর মন্ত্রিত্বের কাজ করতে যেতাম। এর বাইরেও আমার অফিস সারাদিন খোলা। মানুষ পরিষেবা পেয়েছে। আবার আমাকে বিধায়ক হিসেবে জিতিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ।
গণনার কারণে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল বন্দর বিধানসভার গণনাকেন্দ্র সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল। বাইরে রাখা ছিল সাঁজোয়া গাড়ি, জলকামান। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আটকাতে প্রস্তুত ছিল সেনা ও পুলিশ। সোমবার রাত পর্যন্ত একবালপুর, খিদিরপুর অঞ্চল থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
একইভাবে মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা আসনটিও ধরে রেখেছে তৃণমূল। দীর্ঘদিনের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা এবারও সেখান থেকে জিতেছেন। ১ লক্ষ ২৪ হাজার ২৩০ ভোট পেয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে জয়ের ব্যবধান ৮৭ হাজার ৮৭৯ ভোট।
সারা রাজ্য সহ কলকাতার একাধিক আসনে যখন বিজেপির পদ্ম ফুটেছে তখন এই দুই সংখ্যালঘু প্রভাবিত কেন্দ্রে তৃণমূলের জয় অটুট থাকল।