• রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী শোভনদেব, পাশের কেন্দ্রেই হার দেবাশিসের
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাজুড়ে গেরুয়া ঝড়। সেই ঝড়ে দক্ষিণ কলকাতার বুকে রাসবিহারী কেন্দ্রে তৃণমূলকে কুপোকাত করল বিজেপি। এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে ১৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করলেন বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত। যদিও ‘পুরানো চাল ভাতে বাড়ে’ আপ্তবাক্যকে সত্যি করে তীব্র গেরুয়া ঝড়ের মধ্যেও বালিগঞ্জ ‘অক্ষত’ রাখলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ৬১ হাজার ৪৭৬টি ভোটের বিশাল ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শতরূপাকে হারিয়েছেন তিনি। যার অর্থ, দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি দু’টি আসন—রাসবিহারী ও বালিগঞ্জে পাশাপাশি ফুটল পদ্মফুল ও জোড়াফুল। গণনাকেন্দ্রের বাইরে একদিকে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। অনতিদূরে বালিগঞ্জের তৃণমূল শিবিরে বিশাল ব্যবধানে জয় এলেও কোনো উন্মাদনা নজরে আসেনি। 

    রাসবিহারীর ক্ষেত্রে সোমবার পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরুর পর থেকেই এগিয়ে যেতে শুরু করে বিজেপি। প্রথম রাউন্ডের পর বেশ কিছুটা এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত। ২৬৭৩ ভোটে পিছিয়ে পড়েন দেবাশিস কুমার। তখন থেকে কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়, বাংলাজুড়ে বিজেপির যে জয়জয়কার চলছে, রাসবিহারী কেন্দ্র তার অংশ হতে চলেছে। এরপর গণনা যত এগিয়েছে, তৃণমূলের থেকে ব্যবধান ততটাই বাড়িয়ে নিয়েছে বিজেপি। মোট ২০ রাউন্ড গণনা শেষে পদ্মশিবিরের ‘লিড’ পৌঁছে যায় প্রায় ১৮ হাজারে। শেষ হাসিও হাসেন বিজেপি প্রার্থী। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে দেবাশিস কুমার এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক হন। ২১ হাজারের বেশি ব্যবধান ছিল তাঁর। কিন্তু এদিনের ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল, এলাকাবাসী তাঁর উপর আর ভরসা রাখতে রাজি নয়। 

    তবে পাশের কেন্দ্র বালিগঞ্জে এই ঝড়েও অটুট জোড়াফুলের দুর্গ। এখানেও পোস্টাল ব্যালটের গণনা থেকেই ‘ট্রেন্ড’ স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে ৬ হাজার ৯৫২টি ভোটের এগিয়ে যান এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মোট ১৬ রাউন্ড গণনার অষ্টম রাউন্ড হতেই শোভনদেবের জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। ৬২ হাজার ২৬৭ ভোটে তিনি বিজেপিকে পিছনে ফেলে দেন। সকাল থেকেই ভোটগণনায় কড়া নজর রেখেছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু, দিন শেষে তাঁকে ৬১ হাজার ৪৭৬টি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান যোদ্ধা। এই কেন্দ্রে সিপিএমের তরুণ তুর্কি প্রার্থী ছিলেন আফরিন বেগম (শিল্পী)। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৭ হাজার ১৮৫ ভোট। 
  • Link to this news (বর্তমান)