• বাগদায় ননদকে হারিয়ে জয় পেলেন বউদি, ফুটল পদ্মফুল
    বর্তমান | ০৫ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বনগাঁ: পারিবারিক সম্পর্কে তাঁরা বউদি-ননদ। তবে রাজনীতির ময়দানে, এবারের বিধানসভা ভোটে তাঁরা ছিলেন একে অপরের প্রতিপক্ষ। আর সেই লড়াইয়ে জয়ের হাসি হাসলেন বউদি সোমা ঠাকুর। তিনি বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। ওই কেন্দ্রেই তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মধুপর্ণা ঠাকুর। তিনি সোমাদেবীর ননদ। পরাজিত হয়েছেন বউদি সোমা ঠাকুরের কাছে। পারিবারিক সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, ভোটযুদ্ধের ময়দানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়েননি। প্রচারপর্বেই তার প্রমাণ মিলেছে। প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর থেকে জেতার বিষয়ে আশাবাদী ছিলেন দু’জনেই। সোমবার ফল প্রকাশিত হতে দেখা গেল, বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুরকে ৩৪ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩০৭। ৮৬ হাজার ৬৯১টি ভোট পেয়েছেন মধুপর্ণা।

    দু’জনেই মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্যা। রাজনীতির ময়দানে তাঁরা কার্যত নবাগতা হলেও পারিবারিক ঘেরাটোপে রাজনীতিকে কাছ থেকে দেখেছেন। সোমাদেবীর স্বামী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁ লোকসভার সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। অন্যদিকে, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুরের মেয়ে মধুপর্ণা। বছর দেড়েক আগে বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে মধুপর্ণাই এখানে জিতেছিলেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৬ ভোট। উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭৪ হাজার ২৫১টি ভোট। সেই হিসাবে দেখতে গেলে বউদির তুলনায় রাজনীতিতে তিনি কিছুটা অভিজ্ঞ। প্রচারে বেরিয়ে বারবার নিজেকে ‘বাগদার ঘরের মেয়ে’ বলে পরিচয় দিয়েছেন মধুপর্ণা। অন্যদিকে, বাগদার মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে ভোট প্রার্থনা করেছিলেন সোমাদেবী। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের উপরেই আস্থা রেখেছে বাগদাবাসী। তবে পরাজিত হয়ে ইভিএম হ্যাক-এর অভিযোগ তুলেছেন মধুপর্ণা। একই অভিযোগ এনেছেন তাঁর মা মমতা ঠাকুরও। জয়ী প্রার্থী সোমা ঠাকুর বলেন, ‘বাগদার মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁদের আশীর্বাদে আমি জয়ী হয়েছি।’ প্রতিদ্বন্দ্বী ননদকে হারানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন জিতবে, একজন হারবে। এখানেও তাই হয়েছে। এতে পারিবারিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। অতীতে যেমন সম্পর্ক ছিল, আগামীতেও সেটাই থাকবে।’ প্রসঙ্গত, বাগদার এবারের ভোটযুদ্ধে বিজেপি নেতা দুলাল বরের নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়া জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল। তবে তিনি কোনো দাগ কাটতেই পারেননি। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪৫১টি ভোট।
  • Link to this news (বর্তমান)