নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরিয়ে বাংলার দখল নিতে চলেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই শিল্পমহলও তাই যথেষ্ট চাঙা। দীর্ঘদিন এরাজ্যে বড়ো শিল্প আসা বা বড়ো অঙ্কের লগ্নির যে প্রত্যাশা ছিল, তা এবার পূরণ হবে, মনে করছে শিল্পমহল। জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে শিল্প সংক্রন্ত আর্থিক সুরাহা—তৃণমূল সরকারের আমলে যা যা মেলেনি, এবার সেই প্রাপ্তির ঝুলি পূর্ণ হবে, আশায় বাংলার ব্যবসায়ীরা।
মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আশা, এবার শিল্পের জন্য স্বচ্ছ ও বিনিয়োগ বান্ধব নীতি আসবে পশ্চিমবঙ্গে। অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে বিদ্যুতের মাশুল কমানো হবে। তাদের সবচেয়ে বড়ো আশা, স্বচ্ছভাবে জমি অধিগ্রহণ নীতি আনা হবে, যা শিল্পের পরিধি বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে বিকশিত ভারতের সূচনা হবে বাংলায়, আশা করছে বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স। দীর্ঘদিন রাজ্যে শিল্পের জন্য কোনো আর্থিক সুরাহা বা ইনসেন্টিভ নেই। এবার সেই সুযোগ করে দেওয়া হোক, চায় এই বণিকসভা। উন্নতমানের পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে শিল্পের পথ সহজ হবে রাজ্যে, আশা প্রকাশ করেছে তারা। ভারত চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নরেশ পাচিশিয়া বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে বাংলার উন্নয়নের উপর নজর দেবে। এক্ষেত্রে আমাদের আশা, বড়ো অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে রাজ্যে। শিল্পমহলের কাছে বাংলার ভাবমূর্তি ফেরানোই সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন তিনি। বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির টাকা আসার পাশাপাশি আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির তরফে আরও বেশি আর্থিক সহায়তা এরাজ্যের আর্থিক অবস্থা দৃঢ় করবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ করে দেবে।
আরপি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বলেন, নতুন সরকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্পমহলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেবে। তাঁর কথায়, কলকাতা তথা বাংলার উন্নয়নের প্রতি আমার ব্যক্তিগত আবেগ আছে। তাই যে পরির্তনের দিকে বাংলা এগোচ্ছে, আমরাও তার শরিক হতে চাই। আমার বিশ্বাস, বিজেপি সরকার এরাজ্যের লগ্নির বাতাবরণ আরো চাঙা করতে এগিয়ে আসবে।
প্যাটন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় বুধিয়ার কথায়, আমাদের ব্যবসা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড এই রাজ্য থেকেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তাই আমরাও এখানে শিল্পের অগ্রগতিতে সবসময় সঙ্গী হতে চাই। আমাদের আশা, শিল্প ও প্রশাসন এরাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করবে। উন্নয়নের গতি আরো দ্রুত ও জোরালো হবে।