রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শশী পাঁজা। ভোটের আগে তিনি আশাবাদী ছিলেন যে, হাতের তালুর মতো চেনা শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে জিতবেন। কিন্তু নিজের মেয়ের ওয়ার্ড থেকেই মেলেনি লিড। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শশী পাঁজা ১১৫৪ ভোটে পরাজিত। পাশাপাশি, কেন্দ্রেও পরাজয়ের মুখ দেখেছেন সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী।
শুধু শশী নন, বিজেপির পালে প্রবল হাওয়ার জোরে রাজ্যের রাজধানীতে তৃণমূল গড় কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। রেহাই পাননি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ভবানীপুরে তিনি হেরেছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। অরূপ বিশ্বাস, অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার-সহ শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েটও পরাজিত। সাত মাস বাদেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন। বর্তমানে পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৮টি ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে। প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভাও কি তৃণমূলের দখলে থাকবে?
পুর এলাকার অন্তর্গত ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ন’টিতেই তৃণমূল পরাজিত হয়েছে। কলকাতার অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ বারের ফলে রাজনৈতিক মহলও বিস্মিত। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ— তৃণমূলের বহু পুরপ্রতিনিধিই স্বীকার করছেন, দলের খামতিই মানুষের বিরূপতার অন্যতম কারণ। এর প্রভাব পুরভোটে পড়বে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
শ্যামপুকুর কেন্দ্রের অন্তর্গত, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি ইলোরা সাহার অভিযোগ, ‘‘আমার শ্বশুর, স্বামী, আমি মিলে এই ওয়ার্ডে ৪০ বছর ধরে প্রতিনিধিত্ব করেছি। অথচ এ বারের ভোটে দলীয় প্রার্থী আমাদের কাজেই লাগাননি। এটা বড় অপমান। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।’’
একই কেন্দ্রের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুনন্দা সরকারের বক্তব্য,“নিচুতলার কর্মীদের কাজে লাগানো হয়নি। ব্যক্তিগত প্রচারে জোর দিয়েছিলেন প্রার্থী। তার ফল তো পেতেই হবে। এর প্রভাব পুরসভার নির্বাচনেও পড়বে।”
এই প্রসঙ্গে শশী পাঁজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি তিনি। এসএমএস বা ওয়টস্যাপেও সাড়া দেননি।
শ্যামপুকুরের পাশাপাশি কাশীপুর-বেলগাছিয়া, মানিকতলা ও জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। দক্ষিণ কলকাতায় রাসবিহারী, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা (পূর্ব) এবং বেহালা (পশ্চিম) কেন্দ্রেও পরাজয়ের মুখ দেখেছে শাসকদল। টালিগঞ্জে পরাজিত বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অথচ ওই কেন্দ্রের ন’টি ওয়ার্ডই তৃণমূলের দখলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ওই কেন্দ্রের এক তৃণমূল পুরপ্রতিনিধির স্পষ্ট মন্তব্য, “দলের নেতা-কর্মীদের ঔদ্ধত্য ও দাম্ভিক মনোভাব মানুষ মানেননি। সঙ্গে বেকারত্ব, দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিও ছিল।”
পুরসভার বাম পুরপ্রতিনিধি মধুছন্দা দেবের পর্যবেক্ষণ, “মানুষ বিজেপিকেই চেয়েছিল।” অন্য দিকে, পুরসভায় বিজেপি পুরপ্রতিনিধি এবং বিধানসভা নির্বাচনে বরাহনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী সজল ঘোষের দাবি, “দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী। সামনের পুরভোটে বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে।”