পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত কয়েক বছর ধরেই প্রাসঙ্গিক টলিপাড়ার তারকারা। ৪ মে রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠার পরে তাই তাঁদের মতামতের দিকেও নজর মানুষের। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া। আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের জয়ে তিনি খুশি।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর প্রতিবাদে সরব ছিলেন অভিনেত্রী মিমি। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “আরজি কর-কাণ্ডে অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ফের এই ধরনের জঘন্য অপরাধের কথা ভাবলেই ভয়ে মেরুদণ্ড কেঁপে ওঠে।” সেই মন্তব্যের জন্য হুমকি পেয়েছিলেন মিমি নিজেও। কিন্তু তার পরেও নির্যাতিতার মৃত্যুর প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে পথে নেমেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়ান নির্যাতিতার মা। ৪ মে বিজেপির বাংলা জয়ের পরে তাঁর সমর্থনে সরব মিমি। সমাজমাধ্যমে আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের খবরটি ভাগ করে নিয়ে তিনি লিখলেন, “এই জয়টা আমার কাছে খুব ব্যক্তিগত মনে হচ্ছে। কোনও জয়ই আপনার ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না।”
আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে মিমি পথে নামলে তাঁর দিকেও ধেয়ে এসেছিল হুমকি। এক নেটাগরিক তাঁকে লিখেছিলেন, “এই ঘটনা মিমির সঙ্গে ঘটলে কী হত? মিমির পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দিত নাকি? তা হলে মিমি আমার ঘরে এলে ১০ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দেব।” গর্জে উঠেছিলেন মিমি। এমনই নানা রকমের কটূক্তির বিরুদ্ধে সেই সময়ে মিমি লিখেছিলেন, “কাপুরুষের দল, আমায় গালাগাল করে কোনও লাভ হবে না। আমাকে থামানো যাবে না। আমাকে হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমি নির্ভীক হয়েই জন্মেছি। আমাদের মেয়েরা-বোনেরা সকলেই এমন নির্ভীক। আমাদের মেয়েদের বিরুদ্ধে যারা, তাদের সকলের বিরুদ্ধে এই লড়াই। ওরা ভাবে ওরাই বেশি শক্তিশালী লিঙ্গ এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।” বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন মিমি।