সরকারে বিজেপি, প্রশ্ন বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে
আনন্দবাজার | ০৫ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের বার্তা দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারের তুরুপের তাস ছিল বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলন (বিজিবিএস)। জন্মলগ্ন থেকেই এই সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তারা। তবে সোমবার ভোটে বিজেপি জেতার পরে প্রশ্নের মুখে বিজিবিএসের ভবিষ্যৎ। সংশ্লিষ্ট আমলা মহলের দাবি, অতীতে বহু বার এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি। বক্তব্য ছিল, এই মঞ্চ থেকে কত লগ্নি প্রস্তাব এসেছে, তা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখায় রাজ্য। বাস্তবে যার প্রতিফলন নেই কোথাও। বরং প্রায় ৭০০০ সংস্থা এ রাজ্য ছেড়েছে। ধাক্কা খেয়েছে কর্মসংস্থান।
ধাক্কা খাওয়ার কারণ যে আইন-শৃঙ্খলার হাল, সে কথাও মনে করাচ্ছে তারা। সেই প্রেক্ষিতে প্রায় সকলেই সবচেয়ে আগে রাখছে রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া স্বচ্ছ ও নৈতিক ভাবমূর্তি উদ্ধারকে। পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ক্রমশ খারাপ হতে থাকার অভিযোগে বার বার বিদ্ধ হয়েছিল বিগত সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামগ্রিক ভাবমূর্তি। যা লগ্নি আসার পথে মস্ত বাধা বলে মনে করেন অনেকেই। এ দিন সংশ্লিষ্ট সকলে একবাক্যে বলছেন, ‘‘আগে হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি উদ্ধার করা জরুরি। যে প্রতিশ্রুতি এর আগে বহু বার শোনা গেলেও, কথা রাখেনি কেউ।’’
আমলা মহল মনে করাচ্ছে, শিল্পের সমস্যা মেটাতে লগ্নি সংক্রান্ত একাধিক কমিটি তৈরি করেছিল তৃণমূল সরকার। সেই সব কমিটির অস্তিত্বও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। গত ১৫ বছরে শিল্প মহলের সমস্যা এড়াতে একাধিক কমিটি গড়া হয়েছিল শিল্প-প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের নিয়ে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, কমিটিগুলি লোক দেখানো। বাস্তবে কোনও সমস্যারসমাধান হয়নি। তার উপর শিল্পে যে উৎসাহ নীতি চালু ছিল, তা প্রত্যাহার করেছিল রাজ্য। তাতেও ধাক্কা খায় শিল্পের মনোবল। নতুন করে সেই নীতিচালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, করা হয়নি।অথচ, প্রতি রাজ্যে শিল্পের উৎসাহ নীতি কার্যকর রয়েছে। এ দিন রাজ্যের স্বার্থে নীতি ফেরানোর সওয়াল করেন বিশেষজ্ঞ থেকে আমলা, সকলেই।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে শিল্পেরজন্য উৎসাহনীতি নতুন রূপে ফেরাতে পারে বিজেপি সরকার। পাশাপাশি, আগের সরকারের নীতিতে অনেক শিল্প সংস্থা ইনসেনটিভ বা উৎসাহ ভাতা পায়নি বলে অভিযোগ। এ জন্য অনেকে মামলা করে। সেগুলি এখনও চলছে বলে খবর। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সেগুলির ব্যাপারেও পৃথক কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিজেপি সরকার।
আমলা মহলের একাংশের ধারণা, পরিকাঠামো ও শিল্পের জমি সংক্রান্ত নীতি নতুন করে তৈরিতে জোর দেওয়া হতে পারে। বহু দিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, জমি জটে রাজ্যে বহু রাস্তার প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ থমকে। আটকে নতুন সেতু নির্মাণ, গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো পথও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা শিল্পায়ন ও সেই সংক্রান্ত ভাবমূর্তির সামনে অন্তরায়। সিঙ্গুরে টাটাদের বিদায়ের পরে উল্লেখযোগ্য ও বড় শিল্পের দেখা নেই রাজ্যে। পালাবদলের পরে সেই ছবি বদল হবে বলে দানা বাঁধছে আশা।