অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ জিম করবেট এবং কালাগড় টাইগার রিজ়ার্ভের মোহন সাফারি জ়োন। গত এক মাসে বাঘের হামলায় মৃত্যু হয়েছে জঙ্গল সংলগ্ন তাদাম গ্রামের দুই বাসিন্দার। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন দপ্তর। রবিবার সন্ধ্যায় তাদাম গ্রামের বাসিন্দা মহীপাল সিং মেহরার (৫৫) মৃত্যু হয় বাঘের হামলায়। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। তাঁরা পর্যটন বন্ধের দাবি তোলেন। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, সাফারি চলাকালীন মানুষের যাতায়াত বাড়ে টাইগার রিজ়ার্ভে। সে কারণে বন্যপ্রাণীরা ক্রমশ লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। যার জেরেই ঘটছে বিপত্তি।
গ্রামবাসীদের দাবি, একটি বাঘ এখনও ওই এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছে। সেই কারণে DFO দীপক সিং নির্দেশ দিয়েছেন ওই এলাকায় বন দপ্তরের টহলদারি বাড়ানোর। বাঘটিকে ধরার জন্য ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশের এলাকায় একাধিক খাঁচা বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও, ড্রোন এবং ট্র্যাপ ক্যামেরা ব্যবহার করে ক্রমাগত তল্লাশি চালাচ্ছে বন দপ্তর। একটি ট্রাঙ্কুলাইজ়ার টিমও তৈরি রাখা হয়েছে, যাতে বাঘটিকে দ্রুত ঘুমপাড়ানি গুলি করে ধরা যায়।
ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, এক মাস আগেও ওই গ্রামে বাঘের হামলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় SDM কুঁমেরিয়া থেকে তাদাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার জঙ্গলের পথে সোলার লাইট বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও সেই কাজ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
DFO এবং SDO আশ্বাস দিয়েছেন, পাহাড়ি রাস্তায় দ্রুত আলোর ব্যবস্থা করা হবে। রেঞ্জ অফিসার গঙ্গাশরণের নেতৃত্বে একটি দল বর্তমানে জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। বাঘটি ধরা না পড়া পর্যন্ত মোহন সাফারি জ়োন আপাতত বন্ধ রাখা হবে জানিয়েছে বন দপ্তর।