• বাংলায় বিজেপি, কী ভাবছে বিশ্ব?
    আজকাল | ০৫ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের  পাতা যেন গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে উঠেছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের অধিকাংশ প্রতিবেদনে মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে জয়ের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই জয় তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির রাজ্যে ১৫ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে।

    লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং ইসলামাবাদ থেকে ঢাকা, সব জায়গার সংবাদপত্র তামিল সুপারস্টার জোসেফ বিজয়কেও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগেই তিনি 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (টিভিকে) নামে একটি দল গঠন করেছিলেন এবং এবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল 'দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম' (DMK)-কে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন।

    **বিবিসি**বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে মূলত বিজেপির হাতে পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি বিরোধী-দুর্গের নিয়ন্ত্রণ চলে আসার বিষয়টির ওপরই আলোকপাত করেছে। 'মোদির বিজেপি বাংলা জয় করল', ভারতের অন্যতম কঠিন এক রাজনৈতিক রণাঙ্গন' শিরোনামের একটি নিবন্ধে এই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে যে, পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে বিজেপির বিজয় "মোদির ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।"

    ওই নিবন্ধতে বলা হয়েছে, "এটি কেবল টানা তিন মেয়াদের একজন ক্ষমতাসীন নেত্রীর পরাজয়ই নয়, বরং পূর্ব ভারতে দলটির দীর্ঘ অভিযাত্রার এক পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তিও বটে।"

    **দ্য গার্ডিয়ান**অন্য একটি প্রধান ব্রিটিশ দৈনিক, 'দ্য গার্ডিয়ান'-ও বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ছিল বিরোধীদের এমন এক বিরল দুর্গ, যার সমকক্ষ আর কোনও রাজ্য ছিল না এবং সারা দেশে বিজেপির ক্ষমতা সুসংহত করার প্রক্রিয়ায় এই দুর্গটিই ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা।

    রিপোর্টে লেখা হয়েছে, 'নরেন্দ্র মোদির বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করল'—শিরোনামের ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের 'ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে এবং এটি এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়া বিরোধী শিবিরকে আরও একটি বড় ধরনের মনোবল-ভাঙা আঘাত হানবে।'

    **নিউ ইয়র্ক টাইমস**মার্কিন সংবাদপত্র 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর শিরোনাম ছিল 'মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ভারতের বিরোধীদের একটি দুর্গ জয় করল'। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই নির্বাচনী পারফরম্যান্সকে 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির বিজেপি 'সোমবার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে তাদের কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রচারভিযানে এটি একটি বড় অগ্রগতি। তারা দেশের অন্যতম জনবহুল এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে - এমন একটি রাজ্য যেখানে এর আগে তারা কখনওই ক্ষমতার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।'

    প্রতিবেদনটিতে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের অপ্রত্যাশিত জয়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। 'দিনের অন্যতম বড় চমকটি ছিল তামিলনাড়ুতে, যেখানে রাজনীতিতে নবাগত (অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখরের দল) রাজ্যের দু'টি প্রতিষ্ঠিত দলের যেকোনওটির চেয়েই ভাল ফলাফল করেছে।' প্রতিবেদনটিতে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।

    **দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট**দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মোদির 'মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং তাঁর তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে' বলে আশা করা হচ্ছে।

    নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, "২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন তাঁর ক্ষমতাসীন দলকে সরকার গঠনের জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করেছে। আশা করা হচ্ছে, তিনি ২০২৯ সালে রেকর্ড চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে লড়বেন।" 

    প্রতিবেদনটিতে কেরলের পরিস্থিতির ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারকে পরাজিত করেছে এবং বামপন্থীদের সর্বশেষ অবশিষ্ট শক্ত ঘাঁটিগুলোর একটিতে তাদের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

    পাকিস্তানপাকিস্তানে, 'ডন' পত্রিকা নির্বাচনের বিষয়ে এএফপি-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির 'জাতীয়তাবাদী দল' 'বিরোধীদের দখলে থাকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে'র গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছে এবং দীর্ঘকাল ধরে তাদের প্রতিপক্ষের দখলে থাকা একটি শক্ত ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে।

    প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে 'আরও শক্তিশালী অবস্থানে' দাঁড় করাবে, বিশেষ করে যখন তিনি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে উচ্চ বেকারত্বের হার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তি-সহ নানাবিধ অর্থনৈতিক ও বিদেশনীতি বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।

    বাংলাদেশবাংলাদেশের 'ঢাকা ট্রিবিউন' পত্রিকাও এএফপি-এর সেই একই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি বড় চমকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ এমকে স্ট্যালিন তাঁর আসনে এক অপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়েছেন।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, স্ট্যালিনের ক্ষমতাসীন দল 'দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম' (ডিএমকে) নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা সি জোসেফ বিজয় কর্তৃক সদ্য গঠিত একটি দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল।
  • Link to this news (আজকাল)