• হুমায়ুন করে ফেললেন বড় দাবি
    আজকাল | ০৫ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাম আমলে ‘কংগ্রেসের গড়’, পরিবর্তনের পর ‘তৃণমূলের দুর্গ’, সেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দিল ২০২৬–এর বিধানসভা ভোট। একুশের বিধানসভায় ২২টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টি পাওয়া বিজেপি এবার এক লাফে দখল করল ৮টি আসন। আর তৃণমূল কংগ্রেস ২০ থেকে নেমে গেল সরাসরি ৯–এ। মুর্শিদাবাদে বিজেপির অভাবনীয় এই ফলাফলের ‘‌পরোক্ষ’‌ কৃতিত্ব দাবি করলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুনের অকপট দাবি ‘‌আমার জন্যই বিজেপি মুর্শিদাবাদে ৮টা আসন পেল।’‌ 

    তবে জেলার এই পটপরিবর্তনের নেপথ্য কারিগর হিসেবে শেষ ‘‌চেকমেট’‌ চাল দেওয়ার হুমায়ুনের দাবির সঙ্গে সহমত নন মুর্শিদাবাদ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘‌টেকনিক্যালি কী হয়েছে জানি না। তবে হুমায়ুন কবীর, বাবরি মসজিদ তৈরি করার লোক, আর আমরা সেই মসজিদ ভাঙা লোক।’‌ তিনি বলেন, ‘‌মসজিদ যে কেউ তৈরি করতে পারে। কিন্তু ‘‌বাবরি মসজিদ’‌ তৈরি বিজেপি সমর্থন করে না। যে লোক বাবরি মসজিদ তৈরি করেন তাঁর সমর্থন বিজেপি কখনও নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।’‌

    তবে মুর্শিদাবাদে শুধু বিজেপির উত্থান নয়, ২০২৬–এর ভোটে চমক দিয়েছে হুমায়ুন কবীরের সদ্যোজাত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ও। রেজিনগর ও নওদা–দু’‌টি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন হুমায়ুন নিজে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮,৮৭৬ ভোটে হারিয়েছেন হুমায়ুন নিজে। আর তৃণমূলের সঙ্গে ব্যবধান ছুঁয়েছে প্রায় ৮১ হাজার। 

    ‘আজকাল ডট ইন’–কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হুমায়ুনের স্পষ্ট কথা, ‘‌পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীর যে কত বড় নাম, তা আমি করে দেখিয়ে দিলাম। মানুষ আমার কথার উপর ভরসা করে। তাই এই বিপুল মার্জিন। আমাকে কোনওদিন মমতার ছবি দেখিয়ে ভোটে জিততে হয়নি। আমি জিতেছি নিজস্ব ক্যারিশমায়।’‌ 

    হুমায়ুনের দাবি, ‘‌আমি আমার দক্ষতায় অধীর চৌধুরীকে লোকসভায় আর মমতা ব্যানার্জিকে বিধানসভায় হারানোর দায়িত্ব নিয়েছিলাম। করে দেখিয়েছি।’‌ 

    পরিসংখ্যান তুলে ধরে হুমায়ুন মনে করিয়ে দেন, ‘‌২০১১ সালে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের খাতা খুলেছিল মাত্র ১টি আসন দিয়ে। সেখান থেকে ২০২১–এ আমিই ২০টা আসন জিতিয়েছিলাম। কিন্তু কাজের কৃতজ্ঞতা না দিয়ে আমাকে অপমান করা হয়েছে। তারই মাশুল গুণল মমতার সরকার। তাই মুর্শিদাবাদে তৃণমূল ২০ থেকে ৯–এ নামল। আগেও প্রমাণ দিয়েছি, আবারও দিলাম–হুমায়ুন কবীর মুখে যা বলে, কাজে তাই করে দেখায়।’‌ অন্যদিকে, এই সাফল্যের পিছনে নিজের ‘অদম্য জেদ’কেই কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, ‘‌আমাকে দমানোর জন্য আমার মেয়ে–জামাইয়ের সম্পত্তি ‘‌ফ্রিজ’‌ করেছে তৃণমূল সরকার। প্রায় ২২ বছর আগে স্ত্রী’‌র নামে কেনা জমিতে বাড়ি করেছি, সেই নিয়ে শক্তিপুর থানায় স্ত্রীর নামে এফআইআর করা হয়েছে। লালগোলা থানায় মেয়ে, জামাই এমনকি আমার সাত বছরের নাতনির নামও এফআইআর–এ ঢোকানো হয়েছে। পরিবারের উপর এই আক্রমণই আমার জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এই ভোটে আমার একটাই লক্ষ্য ছিল, তৃণমূলকে হারানো। সেটা করেছি।’‌ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের স্পষ্ট জবাব ‘‌আগামী পঞ্চায়েত ভোটে মুর্শিদাবাদে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রমরমা হবে। আপাতত রেজিনগর আসন থেকে ইস্তফা দিয়ে ছেলে রবিনকে (গোলাম নবি আজাদ) উপনির্বাচনে দাঁড় করাব। আমি বহরমপুর থেকে লোকসভা ভোটে লড়ার পরিকল্পনা করছি।’‌ 

    বিজেপি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‌শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকবেই। কিন্তু আমার কেন্দ্রের ভোটার যাঁরা আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছে, তাঁদের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। তাই সব সময় বিরোধিতা নয়, শাসক দলের সঙ্গে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমেই জেলার উন্নয়নের দাবি আদায় করব।’‌ 
  • Link to this news (আজকাল)