• মমতার পরবর্তী প্ল্যান কী? সামনে খোলা এই ২ রাস্তা
    আজ তক | ০৫ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে বৃহত্তম পরাজয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। শুধু রাজ্যের ক্ষমতাই নয়, নিজের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্রও হাতছাড়া হয়েছে। বিজেপির উত্থানে বদলে গিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র। এহেন পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী? আপাতত ২টি রাস্তাই খোলা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেগুলি কী কী? 

    ১. দিল্লির সংসদীয় রাজনীতি 
    ১৯৯৯ সাল। সংসদে দাঁড়িয়ে লালু প্রসাদ যাদব (Lalu Prasad Yadav) বলেছিলেন, 'মমতা খুব শক্তিশালী। উনি সাধারণ মানুষ নন।' অনেকেই সে কথা ফের মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসক বা মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় মমতার কাজ নিয়ে মানুষের দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু শক্তিশালী বিরোধী নেত্রী ও আন্দোলনকারী হিসাবে তাঁর যে ক্যারিশমা, তা ভারতে খুব কম রাজনীতিবিদেরই আছে। মমতার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর হার না মানা মানসিকতা।

    অনেকেই তাই মনে করছেন, এই বড় ধাক্কার পর ফের নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে পারেন তিনি।

    অনেকের মতে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) বাংলায় দলের দায়িত্ব দিয়ে নিজে জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হতে পারেন। দিল্লিতে বিরোধী শিবিরকে একজোট করার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে পারেন মমতা। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি-বিরোধী জোট রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ২. বাংলাতেই ফের বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন
    আরও একটি সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে। তা হল, বাংলাতেই থেকে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দাপুটে বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় ফেরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিরোধিতার চরিত্রেই সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ মমতা। বাম আমলে লাগাতার আন্দোলন, অনশনের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল।

    তৃণমূল ক্ষমতা হারালেও দলের বিশাল সংগঠন এখনও অটুট। সেই সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের রাজনীতিতে ফের জোর দিতে পারেন মমতা। এমনিতেও, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও আন্দোলনের পথ ছাড়েননি তিনি। ফলে স্বচ্ছন্দেই সেই ভূমিকায় ফিরতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে মমতা।সামনে দু’টি রাস্তা; দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নেওয়া। অথবা, বাংলায় ফের রাস্তায় নেমে লড়াই শুরু করা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এখনও মমতার সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর সেই কারণেই বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যায় এখনও শেষ বলে মানতে নারাজ অনেকে। 
  • Link to this news (আজ তক)