২০২৪ সালের আগস্ট। আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। আন্দোলন আছড়ে পড়ে গোটা রাজ্যে। তাতে শামিল হন প্রাক্তন তারকা সাংসদ মিমি চক্রবর্তীও (Mimi Chakraborty)। সোশাল মিডিয়ায় পালটা ধর্ষণের হুমকিও পান তিনি। কাট টু ২০২৬। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন রত্না দেবনাথ। বিপুল ভোটে পানিহাটিতে জয়ের পর অভয়ার মাকে শুভেচ্ছা জানান মিমি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অভয়ার মায়ের ছবি দিয়ে মিমি লেখেন, “এই জয় আমার নিজের জয়ের মতো। কোনও জয়ই যদিও আপনার ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।”
ছাব্বিশের ভোটে পানিহাটির ফলাফল স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভয়া আবেগে ভেসে বিজেপির ভোটবাক্স ভরিয়ে দিয়েছেন ঘরে ঘরে মা, বাবা, ভাইবোনেরা। প্রায় ২৭ হাজার ভোটে জিতছেন বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। পূর্বাভাস ছিলই। পানিহাটি কেন্দ্রে রত্না দেবনাথকে যেদিন বিজেপি প্রার্থী বলে ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকেই তাঁর জয়ের রাস্তা মসৃণ হয়ে গিয়েছিল। যত দিন এগিয়েছে, তত সেই রাস্তা চওড়া হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন। কথা দিয়েছেন, সন্তানহারা মায়ের দুঃখ ঘুচিয়ে দেবেন, ন্যায় পাইয়ে দেবেন। তবে নির্বাচনী ময়দান বলে কথা! কে, কখন, কাকে বাজিমাত দিয়ে দেয়, তা বলা যায় না। তাই প্রচারের শেষবেলায় রত্নাদেবীর বেলাগাম কিছু মন্তব্য তাঁকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে দিলেও, টেক্কা দিলেন শেষমেশ। ‘আর জি কর আমরা ভুলিনি, ভুলিনি অভয়াকে, ভুলিনি অভয়ার হত্যাকারীকে’। এই ক’টি বাক্যই গোটা পানিহাটিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট, মেয়েকে হারানোর পর থেকে যে যন্ত্রণায় ভরে গিয়েছিল জীবন, ২০২৬ সালের ৪ মে যেন তার কিছুটা লাঘব হল। এখন রত্নাদেবী শুধু আর অভয়ার মা নন, এখন তিনি গোটা পানিহাটির জনপ্রতিনিধি। নিজের মেয়ের সুবিচারের পাশাপাশি অন্তত ২ লক্ষ মানুষের সুবিধা-অসুবিধাও দেখভালের দায়িত্ব তাঁর। সেকথা মাথায় রেখেই নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছেন রত্নাদেবী।